


নয়াদিল্লি: আবেগের বিস্ফোরণের পাশাপাশি আগামী দিনেও শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার। রাজধানীতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নমন অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানের মূল সুর এটাই। রবিবার সন্ধ্যায় রজার বিন্নি, রাহুল দ্রাবিড়, মিতালি রাজের হাতে উঠল কর্নেল সিকে নাইডু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার। এটাই বোর্ডের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। পুরুষ ও মহিলা বিভাগে ২০২৪-২৫ মরশুমের সেরা ক্রিকেটারের সম্মান পান যথাক্রমে শুভমান গিল ও স্মৃতি মান্ধানা। এই নিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য পলি উমরিগড় পুরস্কার পেলেন গিল। অন্যদিকে, পঞ্চমবারের জন্য বর্ষসেরা হলেন মান্ধানা।
টানা দু’বার কুড়ি ওভারের কাপযুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। গতবছর মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপেও শিরোপা জিতেছেন হরমনপ্রীত কাউররা। পুরুষদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আয়ুষ মাত্রে বিগ্রেড। এই সময়কালে মহিলাদের অনূর্ধ্ব-১৯ টি-২০ বিশ্বকাপও দখল করেছে ভারত। বিশ্ব ক্রিকেটে টিম ইন্ডিয়ার এমন আধিপত্য সম্পর্কে জীবনকৃতি পুরস্কারজয়ী দ্রাবিড় বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিভার অভাব কোনও দিনই ছিল না। প্রয়োজন ছিল সঠিক পরিচর্যার। এই মুহূর্তে আমরা সবকিছুই জিতছি, যা প্রমাণ করে প্রতিভার পূর্ণ বিকাশই ঘটছে। সত্যি বলতে কী, গত তিন দশকে ভারতীয় ক্রিকেট যেভাবে এগিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য।’ ২০২৪ সালে দ্রাবিড়ের কোচিংয়েই কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। অধিনায়ক ছিলেন রোহিত শর্মা। এবার গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে খেতাব ধরে রেখেছে টিম ইন্ডিয়া।
বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হওয়া সঞ্জু স্যামসনের উপলব্ধি, ‘দেশকে বিশ্বকাপ জেতাতে চেয়েছিলাম। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোর এখনও কাটছে না। সকালে ঘুম থেকে উঠেও সাফল্যের খুশিতে বিভোর থাকছি। তবে পেশাদার ক্রিকেটে আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। আমাদের দেশে যা প্রতিভা, তাতে আগামী দিনেও বিশ্বকাপ জিতবে ভারত।’ অনুষ্ঠানে সম্মানিত হন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী ক্রিকেটাররাও। সূর্যকুমার যাদব, হরমনপ্রীত কাউর— দুই বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেন গিল। বর্ষসেরার সম্মান পেয়ে বেশ রোমাঞ্চিত দেখায় তাঁকে। শুভমান বলেন, ‘অনেক গ্রেট ক্রিকেটারের হাতে শোভা পেয়েছে এই স্মারক। এবার আমিও তা পেলাম। দারুণ গর্ব অনুভব হচ্ছে। গত বছর মোট পাঁচটি আইসিসি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। আশা করব, আগামী দিনেও বজায় থাকবে সাফল্যের ধারা।’ স্মৃতি মান্ধানার কণ্ঠেও শোনা গিয়েছে একই প্রত্যয়ের সুর। কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর থেকে শুরু করে বিস্ময় প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী পর্যন্ত প্রত্যেককেই আবেগাপ্লুত দেখাল জমকালো সংবর্ধনা মঞ্চে।