


সুজয় মণ্ডল, টাকি: ভূমিকম্পে ভয়ানক অবস্থা টাকি-বসিরহাট-সন্দেশখালি-মিনাখাঁ ইত্যাদি সীমান্ত ঘেঁষা জনপদে। ঘড়িতে দুপুর ১টা ২০ মিনিট। আচমকা বাড়িঘরদোরের দরজা-জানলা কাঁপতে শুরু করে। স্টিলের ভারী আলমারি পর্যন্ত দুলতে থাকে। একটি বাড়ি থেকে চাঙড় খসে পাশের বাড়ির অ্যাসবেস্টস ফাটিয়ে দেয়। একাধিক স্কুল থেকে সাবধানতার কারণে বের করে নিয়ে আসা হয় ছাত্র-ছাত্রীদের।
দুপুরে তখন মোটামুটি কর্মব্যস্ততা চলছে টাকিতে। হঠাৎ তীব্র কাঁপন। সাধারণত যেমন হয় প্রথমে সকলে ভেবেছিলেন মাথা ঘুরছে হয়ত।
কিন্তু কম্পন টানা হতে থাকায় বিপদ টের পান। স্কুল-কলেজে তখন পঠনপাঠন চলছে। তীব্র দুলুনির আতঙ্কে ছাত্র-ছাত্রীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে আনা হয়। টাকি ভবনাথ হাইস্কুলের শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, ‘তীব্র কাঁপুনি। কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে গিয়েছিলাম। তারপরই সবাইকে মাঠে নিয়ে চলে যাই।’ টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এমন কম্পন আগে কোনওদিন অনুভব করিনি।’ ভূমিকম্পের পর দেখা যায়, ইছামতীর ধারে যে পুরনো বাড়িগুলি রয়েছে তাদের মধ্যে একাধিক বাড়িতে ফাটল। রাধামাধব পাল নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘অনেকবার ভূমিকম্প হয়েছে কিন্তু এত কাছাকাছি উৎসস্থল হওয়ায় এবার কম্পন মারাত্মক। ইছামতীর জল দুলে দুলে ফুঁসে উঠছিল। পুরনো বাড়ির চাঙড় পড়ছিল খসে খসে।’
অন্যদিকে হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের গোবিন্দকাটি পঞ্চায়েতের দেউলি গ্রামে কম্পনের অভিঘাত ছিল প্রবল। একটি নির্মীয়মাণ দোতলা বাড়ি থেকে ইটের চাঙড় খসে পড়ে পাশের একটি সেলাই মেশিনের দোকানের অ্যাসবেস্টসের ছাদে। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ছাদ। দোকানের ভিতরে থাকা একাধিক সেলাই মেশিন ও কাচের সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দোকান মালিক অরুণ তরফদার বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বিস্ফোরণ হয়েছে। বাইরে বেরিয়ে দেখি ছাদ ধসে পড়েছে। ভাগ্যিস তখন কেউ ভিতরে ছিল না। না হলে বড়ো দুর্ঘটনা ঘটে যেত।’
বসিরহাট শহরেও কম্পনের প্রভাব মারাত্মক। থানার উল্টোদিকে ৭২ নম্বর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন সোনাপট্টির একটি গয়নার দোকানের কাচ ভেঙে পড়ে। বিভিন্ন পুরনো বাড়ির দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। শাহাবুদ্দিন গাজি নামে এক ব্যক্তির রান্নাঘরের দেওয়ালের টাইলস ভেঙে যায়। তিনি বলেন, ‘আচমকা ঘরের আসবাব নড়ে ওঠে। রান্নাঘরের দেওয়ালের টাইলস ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পাই। আমরা আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াই।’ এছাড়া অন্যান্য বাড়ির লোকজনও রাস্তায় বেরিয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। এর পাশাপাশি মিনাখাঁ ও সন্দেশখালিতেও কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ খোলা জায়গায় চলে আসেন ভয় পেয়ে। তবে এখনও পর্যন্ত বড়োসড়ো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর আসেনি এটুকুই যা স্বস্তির খবর।