


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বাঙালির অন্যতম শুভদিন অক্ষয় তৃতীয়া। এই দিনেই অনেকেই শুভ কাজ শুরু করেন। গৃহপ্রবেশ থেকে শুরু করে নতুন প্রতিষ্ঠানের পথ চলা এদিন থেকে শুরু হয়। বিশেষ এই দিনে বর্ধমান শহরের সর্বমঙ্গলা মন্দির, বড়মা বা যোগাদ্যা মন্দিরে গিয়ে জেলার বাসিন্দারা মায়ের দর্শন করেন। অনেকেরই ধারণা, অক্ষয় তৃতীয়ার শুভক্ষণে সোনা কিনলে তা সৌভাগ্যের বার্তা বয়ে আনে। এই ধারণা নিয়ে বিগত বছরগুলিতে বহুজনই অল্প পরিমাণ হলেও সোনা কিনেছেন। কিন্তু এবছর এই ধাতু অগ্নিমূল্য হয়ে উঠেছে। অল্প পরিমাণেও তা কেনার কথা বহুজনই ভাবতে পারছেন না। ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় এক লক্ষ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছে। ইচ্ছে থাকলেও বহুজনই এবার সৌভাগ্যের প্রতীক এই ধাতু বাড়িতে আনতে পারবেন না।
বর্ধমানের বাসিন্দা রাজীব ভৌমিক বলেন, বহুদিন ধরেই অক্ষয় তৃতীয়ার দিন সোনা কেনার চল আমাদের পরিবারে রয়েছে। এই শুভক্ষণে তা কিনলে জীবনে ভালো কিছু হয়। সেই বিশ্বাসেই এই ধাতু কিনে আসছি। দু’-তিন গ্রাম সোনা কিনতাম। আগে সোনার দাম এত বেশি ছিল না। তেমন অসুবিধা হতো না। কিন্তু এবার এক গ্রাম সোনা কিনতে সমস্যায় পড়তে হবে। গাংপুরের বাসিন্দা শুভ চক্রবর্তী বলেন, ধনতেরসে সোনা কেনার চল বাঙালির আগে ছিল না। এখন ওইদিন অনেকেই তা কেনেন। কিন্তু অক্ষয় তৃতীয়ার দিন বাঙালির সোনা কেনার রীতি বহু পুরনো। শুভ দিনে শুভক্ষণ দেখে অনেকেই সামান্য পরিমাণ হলেও সোনা কিনে রাখেন। তবে এবছর এই ধাতুর দাম নাগালের বাইরে চলে যেতে বসেছে। লাফিয়ে দাম বেড়েছে। তারপরও সামান্য হলেও তা কিনতে হবে। প্রথা ভাঙা যাবে না।
বর্ধমানের একটি সোনার দোকানের কর্মী সুদীপ্ত দত্ত বলেন, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দোকানে হালখাতা হয়। এদিন ধার মিটিয়ে ক্রেতারা যে যার সামর্থমতো সোনার অলঙ্কার কিনে নিয়ে যায়। কেউ কেউ ছোট সোনার কয়েন কেনেন। কিন্তু এবছর সোনার দাম আকাশ ছুঁয়েছে। অনেক মধ্যবিত্ত ইচ্ছে থাকলেও তা কিনতে পারবেন না। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ তা কিনবেন। দাম যতই বাড়ুক না কেন তাঁদের কাছে এদিন সোনা কেনাটা রীতি হয়ে আসছে। যাঁদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় তাঁরা অন্য কোনও জিনিস কিনবেন। কেউ কেউ আবার মাটির পাত্র বা প্রদীপ কেনাকেও শুভ বলে মনে করেন। দোকান মালিকদের অনেকেই বলছেন, সোনা কিনতে না পরলে অনেকে রূপো কিনবেন। সেটা কেনারও চল রয়েছে।
অনেকেই বলেন, শুভ এই দিনে যে কোনও কিছুতেই বিনিয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে সোনা কেনা আর্থিকভাবে সমৃদ্ধশালী বহু পরিবারের কাছে ঐতিহ্যে হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা মূল্যবান এই ধাতুকে লক্ষ্মীর প্রতীক বলে মনে করেন। শহরের বাসিন্দারা বলেন, সবকিছুরই দাম বেড়ে গিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির ঠেলায় সংসার চালাতেই বেগ পেতে হচ্ছে। অক্ষয় তৃতীয়ার শুভক্ষণে ইচ্ছে থাকলেও সোনা বা ধাতু অনেকেই কিনতে পারবেন না। তাঁরা পাড়ার দোকানে বকেয়া মিটিয়ে এই দিনটি উদ্যাপন করেন। তবে যাঁদের সামর্থ রয়েছে তাঁরা এদিন বিনিয়োগ করবেন। অক্ষয় তৃতীয়া দিনটির গুরুত্ব অনেক বেশি। এদিন কোনও কাজ করলে বিফলে যায় না। এমন ধারণা নিয়েই বাঙালি এগিয়ে চলছে। • অক্ষয় তৃতীয়ার জন্য ভিড় গয়নার দোকানে। বর্ধমানে তোলা ছবি