


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের সাধারণ মানুষের জ্বালানির সংকট মেটেনি। নিঃশব্দে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। তারই মধ্যে নিজেকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে তুলে ধরার ‘বাজনদার’ জোগাড়ে মে মাসে দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া-আফ্রিকা ফোরাম সামিটে’র আয়োজন করছেন নরেন্দ্র মোদি। আগামী ২৮-৩১ মে। ভারত মণ্ডপমে। ফলে ওই সময়ে ফের দিল্লি হবে স্তব্ধ। বাড়বে সাধারণ মানুষের হয়রানি। যাতায়াত হবে নিয়ন্ত্রিত। ২০২৩ সালের জি-২০ এবং ২০২৬ সালের এআই সামিটের অভিজ্ঞতা যে টাটকা। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে ওই সম্মেলন হবে বলেই আনুমানিক হিসাব কেন্দ্রের। বিদেশমন্ত্রকের হিসাব মতো, ২০১৫ সালে দিল্লিতেই এই সম্মেলনের জন্য খরচ হয়েছিল ১৭৩ কোটি টাকা। ফলে এখন যে তা বাড়বে, বলাই বাহুল্য।
আলজেরিয়া, আঙ্গোলা, ক্যামেরুন, মিশর, ঘানা, লিবিয়া, মরক্কো, নামিবিয়া, নাইজেরিয়ার মতো আফ্রিকার ৫৪টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে চলে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র। স্রেফ আমন্ত্রণ জানানোই নয়। সম্মেলনের দিনগুলিতে নয়াদিল্লিতে পাঁচতারা হোটেলে তাঁদের থাকা-খাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থাও বহন করবে ভারত সরকার। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, তার জন্য নয়াদিল্লির ১৮টি তারকাখচিত হোটেল রুম বুকড। শীঘ্রই সাজিয়ে তোলা হবে রাজধানী। রাজসূয় যজ্ঞের মতো হচ্ছে আয়োজন।
আগামী ২০২৮ সালে হওয়ার কথা ছিল পরিবেশ সংক্রান্ত সম্মেলন ‘কপ।’ কিন্তু সেটি বাতিল করে দিয়েছে মোদি সরকার। পরিবেশ সংক্রান্ত যেসব উদ্যোগ নেওয়ার ছিল, তা ঠিক মতো সম্পূর্ণ হয়নি বলেই আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে বলেই সরকারের অন্দরের খবর। বিশ্বের কাছে যাতে পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে মোদির মুখ না পোড়ে, তা এড়াতেই ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্স (কপ) বাতিল করা হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। তবে চলতি বছরের মে মাসে কিন্তু হবে ইন্ডিয়া-আফ্রিকা ফোরাম সামিট (আইএএফএস)।
২৮ মে হবে ভারত-আফ্রিকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সচিব পর্যায়ের বৈঠক। ২৯ মে বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা। ৩০ মে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। ৩১ মে সার্বিক সম্মেলন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুটি উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখেই এই সম্মেলনের আয়োজন মোদির। একটি হল, আফ্রিকার দেশগুলিতে যে ‘রেয়ার আর্থ মেটিরিয়াল’ বা দুর্লভ প্রাকৃতিক সম্পদের খনি রয়েছে, সেটি পাওয়া। অন্যটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক।
আফ্রিকার দেশগুলিতে থাকা দুর্লভ সম্পদের দখল নিতে চীন জোর গতিতে এগচ্ছে। আফ্রিকার বিভিন্ন জায়গায় চীন তৈরি করে দিচ্ছে পরিকাঠামো। তাই চীনের থেকে তা কেড়ে নিতে ভারত এই আফ্রিকান সামিটে জোর দিচ্ছে। একইসঙ্গে নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক টার্গেট, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আফ্রিকার এই ৫৪ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে দিয়ে নিজের গুণগান করানো। নিজেকে ‘বিশ্বগুরু’র প্রচারে চাই বাজনদার!