


সালটা ১৯৪৩। প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসাবে পথ চলা শুরু আশা ভোঁসলের। বয়স তখন মাত্র দশ বছর। কিন্তু কণ্ঠে অদ্ভুত মাদকতা। দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে বোম্বে ফিল্ম ইন্ড্রাস্টিতে পা রাখা। রকেটের গতিতে লতাজির উত্থান। বিগ বাজেটের ছবিতে তিনিই অটোমেটিক চয়েস। এছাড়া রয়েছেন শামশাদ বেগম, গীতা দত্ত। তাই সুযোগ তেমন পান না আশা। এভাবেই চলছিল। হঠাৎই তাঁকে ব্রেক দেন পরিচালক বিমল রায় এবং সুরকার ও পি নায়ার। অনেকেই মনে করেন, বাকিটা ইতিহাস। কিন্তু তা নয়। ছয় এবং সাতের দশকে প্রচুর গান গেয়েছেন আশা। কিন্তু তাঁর ‘ক্লাসিকাল’ প্রতিভা রয়ে গেছে মেঘে ঢাকা তারার মতো। বলাই বাহুল্য, সেই মেঘটির নাম লতা মঙ্গেশকর। শচীনকর্তা, লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল, সলিল চৌধুরীরা তাঁদের সুরে বেঁধে নিয়েছেন লতার কণ্ঠ। গাইডের ‘পিয়া তোসে নয়না লাগে রে’ কিংবা পাকিজার ‘চলতে চলতে’ তার সার্থক উদাহরণ। কিন্তু আশাও যে শাস্ত্রীয় সংগীতকে কণ্ঠে ধারণ করতে পারেন, তা প্রথম শোনালেন খৈয়াম। ১৯৮১’তে এল উমরাও জান। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘ইন আঁখো কি মস্তি’ শুনে মোহিত আসমুদ্রহিমাচল। এই ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’এর জন্যই সেবার প্রথম ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পান আশা ভোঁসলে।
১৯৮৭ সাল। গুলজার নিয়ে এলেন ‘ইজাজত’। সুর সংযোজনার দায়িত্বে আর ডি বর্মন। তৈরি হল ‘মেরা কুছ সামান’। গাইলেন আশা। আবার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড। গুলজার যখন গানটি কাগজে লিখে নিয়ে আসেন তা মোটেই পছন্দ হয়নি আর ডি বর্মনের। বলেছিলেন, ‘এটা গান? কোনো মিটার নেই। এরপর তো খবরের কাগজ নিয়ে এসে গান তৈরি করে দিতে বলবে!’ এই সময় আশা ভোঁসলেই গুনগুন করতে থাকেন, ‘তুমহারে পাশ পড়া হ্যায়...’। তখনই আর ডি লিরিক্সের কাগজটি নিয়ে সুর দিতে শুরু করেন। মিনিট পনেরোর মধ্যেই তৈরি হয় এই চিরন্তন গানটি।
শুধু ক্যাবারে দিয়ে আশাজির বিচার হয় না। তিনি ভার্সাটাইল। গজল, ঠুংরি গাইতেন নিখুঁতভাবে। খৈয়াম বলেছিলেন, ‘দুই বোনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আবার মিলও প্রচুর। আশার ক্লাসিকাল বেস মারাত্মক স্ট্রং। কেন যে এতদিন ওকে ব্যবহার করা হয়নি!’ ঠিকই বলেছেন খৈয়াম সাব। দুই বোনের চলে যাওয়ার মধ্যেও যে মিল। রবিবার, ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল, ৯২ বছর বয়স... তারই সাক্ষ্য বহন করে।
সোমনাথ বসু