


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: অনেক হয়েছে, আর নয়। আগামী মরশুমে শক্তিশালী দল গড়তে অবিলম্বে ঝাঁপাক ইস্ট বেঙ্গল।’ লাল-হলুদ ড্রেসিং-রুমে বসেই ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা ঝুলন গোস্বামীর। নিজেকে ইস্ট বেঙ্গলের মেয়ে ভাবতেই ভালোবাসেন ‘চাকদহ এক্সপ্রেস।’ জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ক্লাবের কর্মসমিতির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। শনিবার লাল-হলুদ তাঁবুতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঝুলনও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মন্তব্য, ‘বাবার হাত ধরেই ইস্ট বেঙ্গলকে চেনা। এই ক্লাব আমার আবেগ। তাই সাফল্য না পেলে মানসিক কষ্ট কুরে কুরে খায়। ফুটবল মাঠে আগুনে ইস্ট বেঙ্গলকে ফিরে পেতে চাই। লড়াইটা শুরু হোক ড্রেসিং-রুম থেকেই।’ ধারালো বোলিংয়ের মতো ঝুলনের গলাতেও ছুরির ধার। তাঁর সংযোজন, ‘ব্যালান্সড দল প্রয়োজন। একজন যোগ্য সিইও দরকার। ভালো মানের বিদেশি ফুটবলার নেওয়া হোক। দলের ভারসাম্য বাড়াতে দক্ষ ভারতীয় ফুটবলার চাই। এটা বোঝার জন্য টেকনিক্যাল লোক হওয়া নিষ্প্রয়োজন। মোদ্দা কথা, ইস্ট বেঙ্গল ফিরুক ইস্ট বেঙ্গলে।’ কয়েকদিন আগে রবীন্দ্র সদনে মশালবাহিনীর অনুষ্ঠানে একই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যাবর্তনের সুর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে।
বড় ম্যাচের পালস হাড়ে হাড়ে বোঝেন ঝুলন। কিন্তু সাম্প্রতিককালে ডার্বি মানে শুধুই মোহন বাগান। ঝুলনের সাফ কথা, ‘হাজার হাজার সমর্থক চোখের জল ফেলছে। ওরাই ক্লাবের প্রাণ। ইমামি ইস্ট বেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট টাকা ঢালছে। একটাই অনুরোধ, পড়শি ক্লাবের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো টিম গড়ুন। না হলে কোনও লাভ নেই।’
ইস্ট বেঙ্গল আর ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ঝুলনের প্রাণ। ইংল্যান্ডে গেলেই ঢুঁ মারেন প্রিয় ক্লাবে। সমর্থকদের আবেগে খুঁজে পান নাড়ির টান। ঝুলন বললেন, ‘ময়দানে প্র্যাকটিস দেখার অভিজ্ঞতা ভোলার নয়। অনুরাগীদের আব্দার, চিৎকার জেতার খিদে তৈরি করে। ইস্ট বেঙ্গলের স্পিরিট বোঝা উচিত ফুটবলারদের। ময়দানে প্র্যাকটিস ফেরালে আমিও হাজির থাকব গ্যালারিতে। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ভালো সময় আসবেই।’