


অনির্বাণ রক্ষিত: বায়োকেমিস্ট্রি বা জৈব রসায়ন হল জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে ঘটে যাওয়া রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং পদার্থের ওপর পড়াশোনা। এটি মূলত ল্যাবরেটরি ভিত্তিক বিজ্ঞান। আবার বায়োকেমিস্ট্রির উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল মডার্ন মেডিসিন। শুধুমাত্র ওষুধই নয়, চাষাবাদের যুগান্তকারী পরিবর্তনেও সাহায্য করেছে এই বায়োকেমিস্ট্রিই। আর এভাবেই জেনেটিক্স, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেন্সিক, প্ল্যান্ট সায়েন্স এবং মেডিসিনের মতো বিষয়ের মধ্যেও বায়োকেমিস্ট্রি যুক্ত থাকে।
বায়োকেমিস্ট্রির মূল শাখাগুলির মধ্যে রয়েছে অ্যানিমাল বায়োকেমিস্ট্রি, প্ল্যান্ট বায়োকেমিস্ট্রি, মলিকিউলার বায়োলজি, সেল বায়োলজি, মেটাবলিজম, ইমিউনোলজি, জেনেটিক্স, এনজাইমোলজি। অন্যান্য বিজ্ঞানের যে সকল শাখার সঙ্গে বায়োকেমিস্ট্রি যুক্ত সেগুলি হল— বায়োটেকনোলজি, মলিকিউলার কেমিস্ট্রি, এনজাইমেটিক কেমিস্ট্রি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যাল, এন্ডোক্রাইনোলজি, নিউরোকেমিস্ট্রি সহ বেশ কিছু বিষয়।
বিজ্ঞান নিয়ে হায়ার সেকেন্ডারি বা সমতুল পরীক্ষা পাশ করে স্নাতক স্তরে বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে পড়া যায়। এরপর স্নাতকোত্তর স্তরে বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে যে সকল সেক্টরে কাজের সুযোগ রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—
মেডিসিন: কোনও রোগ কী কারণে হয়, কীভাবে সেই রোগ ছড়িয়ে পড়ে, মানুষের শরীরে তার প্রভাব, রাসায়নিক প্রয়োগে কী রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এগুলি মেডিসিন বায়োকেমিস্ট্রির বিষয়। আর এর উপর ভিত্তি করে নানা রকমের ওষুধ তৈরি করা হয়। তাই ওষুধ শিল্পে কাজের সুযোগ রয়েছে বায়োকেমিস্টদের।
এগ্রিকালচার: বিভিন্ন দেশে যে খাদ্য সংকট চলছে, বায়োকেমিস্টদের কাজ সেই অবস্থা পরিবর্তনে প্রযোজনীয় দিক নির্দেশ করা। গাছের রোগ থেকে পোকার আক্রমণ এবং শস্য সংরক্ষণ এই সবই বায়োকেমিস্টির মধ্যে পড়ে। আর এ কারণে চাষাবাদেও বায়োকেমিস্টরা সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। কাজের সুযোগও রয়েছে।
নিউট্রিশন: মানব দেহে খনিজ, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেড, প্রোটিন, ভিটামিনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে নানা ধরনের ডায়েট প্ল্যান তৈরি করতে হয়। এখানেও প্রয়োজন হয় বায়োকেমিস্টের। বায়োকেমিস্টরা দেখেন এই অত্যাবশকীয় দ্রব্যগুলি শরীরে বেশি বা কম হয়ে গেলে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আর সে কারণে নিউট্রিশন এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়াগায়ও বায়োকেমিস্টদের দখলে চলে এসেছে।
কাজের সুযোগ:
সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, হাসপাতাল, সরকারি সংস্থা এবং এনজিওগুলিতে বায়োকেমিস্ট নেওয়া হয়। যদিও এই প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিটিতেই গবেষণা ও পরীক্ষা চালানো হয়। ক্যান্সার বা এইচআইভি বা হাল আমলের নোভেল করোনা ভাইরাসের এর মতো রোগ জীবাণুকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা খুঁজে বার করা অথবা বিভিন্ন রকমের রোগের উৎস এবং কারণ খুঁজে বের করাই এর লক্ষ্য।
পড়া শেষে কাজ মেলে অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট হিসাবে, বায়োমেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট হিসাবে, হেলথ কেয়ার সায়েন্টিস্ট, ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট্রি, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ফরেনসিক সায়েন্টিস্ট, সায়েন্টিফিক ল্যাবোরিটরি টেকনিসিয়ান, কেমিস্ট, ফিজিসিস্ট, পলিসি মেকার, ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে। যেসব জায়গায় কাজের সুযোগ রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে— হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি ইনস্টিটিউট, কসমেটিক কোম্পানি, ফরেন্সিক ক্রাইম রিসার্চ সেন্টার, ড্রাগ ডিসকভারি ইনস্টিটিউট প্রভৃতি জায়গায়।