


সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পরপর দু’দিনে ১০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে শুক্রবার জরুরি বৈঠক করেন মেডিকেলের প্রিন্সিপাল ডাঃ সুজয় মিস্ত্রি। উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোর, অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়, সব অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার এবং শিশু বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সরা।
বৈঠক শেষে ডাঃ সুজয় মিস্ত্রি জানান, ১০ জন শিশুমৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। হাসপাতালের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়। তিনি বলেন, মৃত ১০ শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের জন্ম উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হয়েছিল। বাকি অধিকাংশই বিহার ও বিভিন্ন জেলার সরকারি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রেফার হয়ে এসেছিল।
প্রিন্সিপালের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই রোগী রেফার করার আগে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ভেন্টিলেটর বা অন্যান্য পরিষেবার প্রাপ্যতা সম্পর্কে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। আবার কিছু নার্সিংহোমে দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ দিন চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে শেষ মুহূর্তে রোগীকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে পাঠানো হয়। এর মধ্যে বেশকিছু শিশুর অপরিণত অবস্থায় জন্মেছিল। এই ধরনের প্রবণতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সিএমওএইচদের মাধ্যমে হাসপাতালগুলিকে সতর্ক করা হবে যাতে সংকটাপন্ন শিশুকে রেফার করার আগে সরকারি নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়। পাশাপাশি নার্সিংহোমগুলিকেও অযথা রোগী আটকে না রেখে সময়মতো উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশু এলে তাকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার সুযোগও পাওয়া যায় না। অন্যথায় রোগীর পরিবারের হয়রানি যেমন বাড়ছে, তেমনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান প্রিন্সিপাল।
চিকিৎসা পরিষেবার মান বজায় রাখা এবং শিশুমৃত্যুর হার কমাতে এখন থেকে প্রতি মাসে একবার করে এই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক করা হবে বলেও জানান প্রিন্সিপাল। তাঁর কথায়, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।