


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বেআইনি বিল্ডিংয়ের রমরমা। অভিযোগ, এসজেডিএ’র এলইউসিসিকে সামনে রেখে শিলিগুড়ি শহর ও শহরতলিতে বিনা প্ল্যানে নির্মাণ হচ্ছে বহুতল। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পুরসভা ও এসজেডিএ’র একাংশের মদতে এধরনের বেআইনি কারবার করছেন অসাধু রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা। এবার এনিয়ে নড়েচড়ে বসছে পুরসভা ও এসজেডিএ। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দু’টি সংস্থাকে এ ব্যাপারে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
শুক্রবার পর্যটনমন্ত্রী বলেন, এসজেডিএ’র এলইউসিসিকে সামনে রেখে প্রচুর অনিয়ম হচ্ছে। বেআইনিভাবে তৈরি করা হচ্ছে বহুতল বিল্ডিং। এ ব্যাপারে এসজেডিএ ও পুরসভাকে পৃথকভাবে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিলিগুড়ি শহর এখন বিল্ডিং নগরিতে পরিণত হয়েছে। শহরের পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সর্বত্র একের পর এক তৈরি হচ্ছে বহুতল আবাসন, মার্কেট কমপ্লেক্স। অভিযোগ, বেআইনিভাবে বিল্ডিংগুলি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্ল্যান না করেই নির্মাণ করা হয়েছে প্রচুর ভবন। আর ভবন নির্মাণের পর কমপ্লিকেশন সার্টিফিকেটও নেওয়া হচ্ছে না। পুরসভা ও এসজেডিএ’র একাংশের মদতে অসাধু রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা এমন কারবার করছেন বলে অভিযোগ।
এসজেডিএ সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি শহরে ভবন, শপিংমল, মার্কেট কমপ্লেক্স প্রভৃতি তৈরি করার আগে ল্যান্ড ইয়ুস কম্পাটিবিলিটি সার্টিফিকেট (এলইউসিসি) নিতে হয়। এটা মূলত জমি ব্যবহারের অনুমতিপত্র। নিয়ম অনুসারে এলইউসিসির এক বছরের মধ্যে শহরে পুরসভা এবং গ্রামীণ এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের কাছ থেকে প্ল্যান পাশ করাতে হবে। সেই প্ল্যান বা নকশা অনুসারে নির্মাণ কাজ করার নিয়ম। কিন্তু, একটি চক্র এই নিয়ম মানছে না। এতে সরকারের রাজস্ব যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি প্রকল্পগুলির মান নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে বেনিয়মের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তাই বিল্ডিং নির্মাণ নিয়ে এসজেডিএ একটি তদন্ত করবে। এজন্য জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি হবে। একই কায়দায় পুরসভার কমিশনারকে বেআইনি বিল্ডিং নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শহরে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের বিপরীতে অর্ধনির্মিত ভবন সম্পর্কে স্ট্যাটাস পুরসভা ও এসজেডিএ’র কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।
অর্থ ও পরিবহণ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন বলেন, এসজেডিএ’র রিপোর্ট অনুসারে বিনা প্ল্যানে নির্মাণ হওয়া ভবনগুলির মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হবে জরিমানা। আর যেসব ভবন নিকাশিনালা, রাস্তা, সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে সেগুলি ভাঙা হবে। • নিজস্ব চিত্র।