


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর, খাতড়া: সোমবার বাঁকুড়া জেলায় বজ্রাঘাতে স্বাস্থ্যকর্মী সহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বাড়ি রাইপুর, বিষ্ণুপুর, সিমলাপাল ও বড়জোড়া থানা এলাকায়। এদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে রাইপুর ব্লকের ধানাড়া পঞ্চায়েতের মধুপুর গ্রামের কাছে বজ্রাঘাতে একই পরিবারের দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের নাম মণিমালা হাঁসদা(২৬) ও খুকুমণি হাঁসদা(২২)। রাইপুর থানার বেনাশুলি গ্রামে তাঁদের বাড়ি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মণিমালা পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী। সোমবার ধানাড়া সাব-সেন্টারে কাজ শেষ করে বোন খুকুমণিকে নিয়ে স্কুটিতে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। খুকুমণি দিদির সঙ্গে দেখা করতে ওই সাব-সেন্টারেই গিয়েছিলেন। ফেরার পথে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মধুপুর গ্রামের কাছে একটি গাছের নীচে দাঁড়িয়ে তাঁরা বর্ষাতি পরার চেষ্টা করছিলেন। সেইসময় আচমকা বজ্রপাত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন দুই বোন। তাঁদের সঙ্গে থাকা মামনি মাণ্ডি নামে আর এক যুবতীও গুরুতর জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তিনজনকে উদ্ধার করে রাইপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মণিমালা ও খুকুমণিকে মৃত ঘোষণা করেন। মামনিকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এদিন দুপুরে বিষ্ণুপুরের গোপালপুরে মাঠে চাষের কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মহিলা খেতমজুরের মৃত্যু হয়। মৃতার নাম ববিতা লোহার(৪৩)। তাঁর বাড়ি বিষ্ণুপুর পুরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের তেজপালে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত হয়। ওইসময় ববিতাদেবী অন্যান্যদের সঙ্গে মাঠে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রঘাতে তিনি মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আচমকা বাজ পড়ায় আলোর ঝলকানিতে মাঠে থাকা আরও তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। মৃতার এক জা বলেন, দিদি এদিন অন্যের জমিতে ধান রোয়ার কাজে গিয়েছিল। দুপুরে বৃষ্টি নামে। আর সামান্য অংশ রোয়া বাকি ছিল। ওই অংশটুকু রোয়া শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তারমধ্যেই বজ্রাঘাতে আর ফেরা হল না।
এদিন ভোরে সিমলাপাল থানার লক্ষ্মীসাগর গ্রামে বজ্রাঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম পবিত্র লোহার(১৯)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোরে বাড়ির পাশে ফাঁকা মাঠে ওই যুবক প্রাতঃকৃত্য সারতে যান। ওইসময় বজ্রপাত ও বৃষ্টি শুরু হয়। বজ্রাঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে সিমলাপাল ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
বড়জোড়ায় এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম তপন বড়ু(৫২)। তাঁর বাড়ি বড়জোড়া থানার দেউচা গ্রামে। এদিন দুপুরে তপনবাবু গ্রাম সংলগ্ন জমিতে কাজ করছিলেন। ওইসময় বাজ পড়ে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বড়জোড়া থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।