


নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: উন্নয়ন খাতে বড়সড় বরাদ্দ পেল নদীয়া জেলার দক্ষিণতম ব্লক হরিণঘাটা। ব্লকজুড়ে ছ’টি রাস্তা তৈরির জন্য বরাদ্দ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। যার মধ্যে বেশকিছু রাস্তার টেন্ডার প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। বাকি রাস্তাগুলির ক্ষেত্রে চলতি বছরের মধ্যেই টেন্ডার এবং ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার কাজ শেষ করতে চাইছে ব্লক প্রশাসন।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি বরাদ্দ হয়েছে হরিণঘাটা ব্লকের রাস্তা তৈরির জন্য। দু’টি ফান্ড থেকে বরাদ্দ এই টাকায় ছ’টি রাস্তা তৈরি হবে। এর মধ্যে কেবল একটি রাস্তা তৈরির জন্যই বরাদ্দ হয়েছে ৪৯ লক্ষ টাকা। হরিণঘাটা ব্লকের কাষ্ঠডাঙা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নিমতলা বাজার এলাকা থেকে সেই রাস্তা তৈরি হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৪৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯৮ টাকা। বাকি রাস্তাগুলি রয়েছে বিরহী-২, ফতেহপুর, মোল্লাবেরিয়া, নগরউখড়া-১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায়। বিরহী এলাকার একটি রাস্তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে নয় লক্ষ টাকা, ফতেহপুর এলাকার রাস্তাটির জন্য বরাদ্দ প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। মোল্লা বেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতেও প্রায় সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ৬০০ মিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য।
হরিণঘাটা ব্লকের দ্বিতীয় সর্বাধিক বরাদ্দ হয়েছে, নগরউখড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তার জন্য। এই পঞ্চায়েত এলাকার একটি রাস্তার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে বরাদ্দ করা হয়েছে ২৭ লক্ষ টাকা। প্রায় এক কিলোমিটারের কাছাকাছি দীর্ঘ রাস্তার সংস্কার করা হবে। নগরউখড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ক্ষেত্রেও বরাদ্দ হয়েছে অর্থ। সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লক্ষ টাকা খরচ হবে একটি রাস্তা তৈরির জন্য। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাস্তাশ্রী প্রকল্পেই অধিকাংশ রাস্তা সংস্কার করার জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। গ্রামোন্নয়নের পৃথক ফান্ড থেকে নিমতলা বাজারের রাস্তার জন্য ৪৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে হরিণঘাটা ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক মহাশ্বেতা বিশ্বাস বলেন, সম্প্রতি গোটা জেলার মতো হরিণঘাটা ব্লকে একাধিক রাস্তার জন্য বরাদ্দ পেয়েছে। আমরা মোট ছ’টি রাস্তা পাচ্ছি এই দফায়। যার আনুমানিক অনুমোদন দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি। প্রতিটি কাজই প্রশাসনিক ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে। বেশকিছু রাস্তার ক্ষেত্রে আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শুরু করে দিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যে সেগুলির ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে যাবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বাকি রাস্তাগুলিরও টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।