


সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: তিনবার পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। আইএসএলে এদিন নাছোড়াবান্দা লড়াইয়ের নিদর্শন রাখল ১০ জনের ইস্ট বেঙ্গল। হাফ ডজন গোল, মিগুয়েলের লাল কার্ড, বিতর্কিত রেফারিং। যুবভারতীতে ইস্ট বেঙ্গল বনাম বেঙ্গালুরুর দ্বৈরথে গনগনে আঁচ। তবে এমন দিনেও অস্কারের কোচিং নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। একে অস্কারে রক্ষা নেই, দোসর মিগুয়েল। মেজাজ হারিয়ে চূড়ান্ত উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ব্রাজিলিয়ানের। গোটা দলকে বিপদের মুখে ফেলে বেরিয়ে গেলেন তিনি। সংযোজিত সময়ের শেষলগ্নে জাল কাঁপিয়ে ত্রাতা অ্যান্টন সোয়বার্গ। এছাড়া লাল-হলুদের দুই গোলদাতা আনোয়ার আলি ও সাউল ক্রেসপো। বেঙ্গালুরুর হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন আশিক কুরুনিয়ান, সুরেশ সিং ও রায়ান উইলিয়ামস। ৮ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত তৃতীয় স্থানে উঠে এল মশাল বাহিনী।
এদিন ম্যাচের শুরুতে গ্যালারিতে নেমে আসে এক বিশাল টিফো। লাল-হলুদ গ্যালারিতে একাকী বসে সদ্য প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি। তেতে ওঠার আদর্শ মঞ্চে দলটাই ভুল নামালেন অস্কার। ৩ ডিফেন্ডারের স্ট্র্যাটেজি বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। তবুও নিরুত্তাপ স্প্যানিশ কোচ। এদিন রাইট উইং ব্যাকে নামালেন বিপিনকে। বিপক্ষ দলে আশিক, রায়ানের মতো উইঙ্গার থাকা সত্ত্বেও তাঁর অহেতুক গোয়ার্তুমির যুক্তি নেই। ১২ মিনিটেই তার প্রমাণ মেলে। লং বল ধরে বিপিনকে টপকে ডান পায়ের দুরন্ত শটে জাল কাঁপান আশিক (১-০)। গোল হজমের ৯ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে ইস্ট বেঙ্গল। মিগুয়েলের ভাসানো কর্নার থেকে ছিটকে আসা বলে দুরন্ত ব্যাকভলিতে জাল কাঁপান আনোয়ার (১-১)। এরপর ম্যাচের দখল নেওয়ার পরিবর্তে মিগুয়েলের লাল কার্ডে সব গুবলেট। সাইড লাইনে প্রথমে হাত চালান আশিক। তবে তাঁকে কার্ড দেখাননি রেফারি। তখন মেজাজ হারান মিগুয়েল। বেঙ্গালুরুর অভিযোগ, তাদের এক ফুটবলারের গলা টিপে ধরেছিলেন মিগুয়েল। মার্চিং অর্ডারের পর আরও বড় অপরাধ করলেন ব্রাজিলিয়ান মিডিও। বিপক্ষ বেঞ্চ লক্ষ্য করে বল মেরে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মিগুয়েল। আর সেটা আন্দাজ করেই তাঁর শাস্তি কমানোর আবেদন জানিয়ে ম্যাচ শেষে ফেডারেশনকে চিঠি পাঠাল ইস্ট বেঙ্গল। কোচ অস্কারের অভিযোগ অবশ্য অন্য। তাঁর দাবি, বেঙ্গালুরুর ডাগ-আউট থেকে কুরুচিকর মন্তব্য করা মিগুয়েলকে। তাতেই নাকি তিনি মেজাজ হারিয়ে বসেন।
এরই মধ্যে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে ডানদিক থেকে গতি বাড়িয়ে গোলের লক্ষ্যে শট নেন রায়ান। এক্ষেত্রে বল গ্রিপ করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য ভুল গিলের। ফিরতি বল সহজেই জালে জড়ান সুরেশ সিং (২-১)। দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ফাইট-ব্যাক ইস্ট বেঙ্গলের। ৫৫ মিনিটে জমি ঘেষা শটে দলকে দ্বিতীয়বারের জন্য সমতায় ফেরান সাউল (২-২)। এরপর আনোয়ারের চোট মাথাচাড়া দিতেই সমস্যা আরও বাড়ে। ম্যাচে জাঁকিয়ে বসে বেঙ্গালুরু। ৭১ মিনিটে একক দক্ষতায় গোল রায়ান উইলিয়ামসের (৩-২)। তবু হাল ছাড়েনি ইস্ট বেঙ্গল। সংযোজিত সময়ে বাঁ পায়ের ছোট্ট প্লেসিংয়ে গুরপ্রীতকে হার মানান পরিবর্ত সোয়বার্গ (৩-৩)।
ইস্ট বেঙ্গল: প্রভসুখন, আনোয়ার (রাকিপ), জিকসন (জয়), কেভিন, বিপিন, শৌভিক (ডেভিড), সাউল, বিষ্ণু, এডমুন্ড (নন্দ), মিগুয়েল ও এজেজ্জারি (সোয়বার্গ)।