


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বেশ কিছুদিন ধরেই অস্থির শেয়ার বাজার। এরইমধ্যে বড়োসড়ো দুর্নীতির পর্দাফাঁস! ৫ বছর ধরে সেবি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, অর্থমন্ত্রকের নাকের ডগায় শেয়ার বাজারে ভুয়ো পুঁজি, ভুয়ো লগ্নি এবং ভুয়ো ক্রয়বিক্রয়ের বার্তা দিয়ে ততোধিক মিথ্যা মোট সম্পদ সৃষ্টির প্রচার করে এসেছে একটি সংস্থা। শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি তদন্ত করে এই বিস্ফোরক তথ্য জানতে পেরেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার চার বছরে ১৫ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের দাবি যাচাই করতে গিয়ে সেবি দেখেছে, সিংহভাগ লগ্নি, ক্রয়বিক্রয় এবং সম্পদের পরিমাণ অসত্য। প্রতারণা করা হয়েছে কয়েক লক্ষ শেয়ারগ্রাহকের সঙ্গেও। সুইৎজারল্যান্ডের একটি সংস্থাকে এই ভারতীয় সংস্থা অধিগ্রহণ করেছিল কয়েক বছর আগে। সেই সংস্থার মাধ্যমেই চার বছরে আয় হওয়া সিংহভাগ সম্পদ জমা হয়েছে বলে দাবি করেছে রাজেশ এক্সপোর্টস নামের এই বিতর্কিত সংস্থা।কিন্তু ওই সুইস সংস্থার রেকর্ড বুক থেকে সেবি জানতে পারছে খুব বেশি হলে ৩ হাজার কোটি টাকা আয় হয়েছে। বাকি টাকা কোথা থেকে এসেছে তার হদিশ নেই। আদৌ ১৫ লক্ষ কোটি টাকার অস্তিত্ব আছে কিনা কোথাও সেটা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে সেবির তদন্তকারী টিম।
রাজেশ এক্সপোর্টসের মার্কেট ক্যাপিটাল প্রচারের প্রতারণায় পড়েছে খোদ এলআইসিও। এই সংস্থায় এলআইসি ১০.৮ শতাংশ শেয়ার ক্রয় করেছে বলে সেবি জানতে পারছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) একটি ইমেল মারফৎ অভিযোগ পায় রাজেশ এক্সপোর্টস সম্পর্কে। সেখানে বলা হয়, একটি বিশেষ বাণিজ্য লেনদেনে যে টাকা জমা হওয়ার কথা ছিল সেটি আসেনি। সেবি তাদের তদন্ত করে ওই সংস্থার কাছে জানতে চাইছে, ১৫ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের দাবির উৎস কী? কোন কোন লেনদেন থেকে এই টাকা এসেছে? শুধুমাত্র ২০২৫ সালের এক বছরে সংস্থা দেখিয়েছে, তাদের মোট আয় সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। কাঁচা সোনা ক্রয়ের পর শোধন করে বাজারজাত করা, রপ্তানি এবং দেশীয় বাজারে বিক্রি করার মতো সংস্থা অনেক আছে। সেবি বলেছে, এরকম সংস্থার মুনাফা আকাশছোঁয়া হয় না। অন্তত রাজেশ এক্সপোর্টস যে স্তরের মুনাফা দেখিয়েছে চার বছরে সেটা অবিশ্বাস্য। বহু দেশের বাৎসরিক বাজেটের থেকেও বেশি আয় বেঙ্গালুরুর এই ছোটো সোনা আমদানি ও ক্রয়বিক্রয়ের সংস্থার। সেবির এই তদন্ত ও সক্রিয়তা প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃহস্পতিবার শেয়ার বাজারে প্রভাব পড়ে। বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা সোনার বাণিজ্য করা সুইস সংস্থা ভালকাম্বিকে রাজেশ এক্সপোর্টস কিনে নিয়েছিল বলে দাবি। তারপর থেকে যত ব্যবসা ও মুনাফা হয়েছে তার ৯০ শতাংশ এই সংস্থার দ্বারা। অথচ এই সংস্থার অডিট রিপোর্ট যাচাই করে সেবি জেনেছে, তাদের কয়েক বছরের বার্ষিক লেনদেন কয়েকশো কোটি টাকার বেশি নয়। তাহলে রাজেশ এক্সপোর্টের ১৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব কোথা থেকে এল? তোলপাড় শেয়ার বাজার এবং কর্পোরেট মহল।