


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাকরির সিভি জমা করার জন্য টোপ দিয়ে তরুণীকে ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠিয়েছিল যুবক। তারপর কৌশলে মাদক মেশানো কোল্ড ড্রিঙ্ক খাইয়ে তাঁকে বেহুঁশ করার পর ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে গল্ফগ্রিন থানা এলাকায়। নেশা কাটার পর তরুণী দেখেন তাঁর পোশাক অবিন্যস্ত। বাড়ি ফিরে ঘটনার কথা জানালে পরিবারের সদস্যরাই তাঁকে নিয়ে যান গল্ফগ্রিন থানায়। সেখানে লিখিত অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে ধর্ষণ, পানীয়র সঙ্গে মাদক মিশিয়ে বেহুঁশ করা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার রাতে অভিযুক্ত সায়েল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তরুণীর বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছিলেন বাবা। এক ঘটকের সঙ্গে এ নিয়ে কথাবার্তাও চলছিল। ওই ঘটকই সায়েলকে নিয়ে আসে। দুই পরিবারের মধ্যে কথাবার্তা হয়। তরুণীর বক্তব্য ছিল, পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার পর বিয়ে করবেন। মেয়ের ইচ্ছায় সম্মতি দেন বাবা। তিনি ওই সায়েলকে জানিয়ে দেন, মেয়ে রাজি না থাকায় এখন বিয়ে হচ্ছে না। পরে এ নিয়ে ভাবা যাবে। তারপরেও হাল ছাড়েনি যুবক। সে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চাইছিল। মাঝে মধ্যে দেখা করতে আসত। তখনই জানতে পারে, তরুণী চাকরির খোঁজ করছেন। এরপরই মতলব আঁটে সে। দিন দুই আগে অভিযোগকারিণী বাড়ি থেকে বেরলে দেখা করে সায়েল। কথা প্রসঙ্গে বলে, একটি কোম্পানিতে নিয়োগ চলছে। সেখানে তার পরিচিত রয়েছে। চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সেইমতো ২৩ জুলাই তাঁকে ডেকে পাঠায় নিজের ফ্ল্যাটে। সেখানে গিয়ে তরুণী দেখেন, ফ্ল্যাটের নীচে খাওয়াদাওয়া চলছে। তাঁকে সেখানে খাইয়ে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় সায়েল। সেখানে আগে থেকে কোল্ড ড্রিঙ্কের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে রেখেছিল সে। তরুণী যাওয়া মাত্র সেটি ধরিয়ে দেয়। সেই পানীয় খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেহুঁশ হয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। নেশা কাটলে তরুণী দেখেন, তাঁর জামাকাপড় অবিন্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। তাঁকে যৌন নিগ্রহ করা হয়েছে। পরের দিন ২৪ জুলাই গল্ফগ্রিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তার ভিত্তিতে ধর্ষণ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। রবিবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য পুলিশ হেপাজতের দাবি জানান। আদালত তা মঞ্জুর করেছে।