


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: রাস্তার উপর ছড়িয়ে রয়েছে ইমারতি সামগ্রী। দুর্ঘটনা এড়াতে এবং পথচারীদের হয়রানি রুখতে এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিল বাগুইআটি থানার পুলিশ। সার্ভিস রোডে স্টোন চিপস রাখার অভিযোগে ইমারত সামগ্রীর দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে তাঁদের সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু, কথা শোনেননি। তাই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার মানুষ। তাঁদের কথায়, রাস্তার ধারে কখনও স্টোন চিপস, কখনও বালি নামানো হয়। সেসব মাঝ বরাবর চলে আসে। ফলে, রাস্তা চওড়া হলেও ইমারতি সামগ্রীর জেরে অপরিসর যায়। যান চলাচলে সমস্যা হয়। বিপদে পড়ে পথচারীরা।
প্রসঙ্গত, রাস্তার ধারে স্টোন চিপস রাখার কারণে ১ আগস্ট এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল বরানগরে। দুই সন্তানকে ই-স্কুটারে চাপিয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন বাবা। স্টোন চিপস এড়াতে গিয়ে লরির ধাক্কায় দুই সন্তানেরই মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছিলেন বাবাও। তারপর বিভিন্ন জায়গায়
পুলিশি অভিযান চলেছে। রাস্তার ধারে ইমারতি সামগ্রী রাখা হলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা করার কথা ঘোষণা করেছিল সরকার। নিউটাউনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্লকের ভিতরে বহু জায়গায় ইমারতি সামগ্রী রাখা হচ্ছে। তাঁরা এনকেডিএ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটির জোড়ামন্দির এলাকায় সার্ভিস রোডের উপর স্টোন চিপস রাখা হয়েছিল। টহলরত পুলিশের একটি ভ্যান সেখানে গিয়ে দেখে, পথচারীদের রাস্তা পারাপারে সমস্যা হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছেন তাঁরা। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেইসঙ্গে যানবাহন যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে যানজট বাড়ছে। ওই স্টোন চিপস কাদের, তা নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, কিছুটা দূরে একটি নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের জন্য তা আনা হয়েছিল। পুলিশ প্রথমে ইমারতি কারবারে যুক্ত এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বাগুইআটি থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে।