


সৌরাংশু দেবনাথ, আমেদাবাদ: পাজি, কভি হাস ভি লিয়া করো! কোচ গৌতম গম্ভীরকে জড়িয়ে ধরে মন্তব্য অর্শদীপ সিংয়ের। ছোট্ট এই রিল রীতিমতো সাড়া ফেলেছে। দলের ঐতিহাসিক সাফল্য গাম্ভীর্যের খোলস খুলে ফেলে হাসিয়েছে গুরু গৌতমকেও। বিশ্বজয়ের মুহূর্তে কি আর গোমড়া মুখে থাকা যায়? শহর আমেদাবাদ তো সারা রাত ঘুমোয়নি। ভোর পর্যন্ত ঢাক পিটিয়ে, বাজি পুড়িয়ে চলেছে বিজয়োৎসব। সকাল হতেই মিষ্টি বিতরণের হিড়িক। এফএম রেডিও, টিভিতে চলছে সেলিব্রেশনের রকমারি খবর। ‘গুজরাতি’ অক্ষর প্যাটেলের তিন উইকেট নিয়ে তো বটেই, ঘরের ছেলে যশপ্রীত বুমরাহর বিধ্বংসী বোলিংও ছড়াচ্ছে মুগ্ধতার আবেশ। লাল দরজার সামনে চা-স্ন্যাকসের দোকানের মালিক রাজু যেমন অকপট, ‘বুমবুম চার উইকেট নিল বলেই তো তাড়াতাড়ি দাঁড়ি পড়ল ম্যাচে।’ সিন্ধ্রি মার্কেটে টেক্সটাইলের বড় ব্যবসা আনন্দের। নীল জার্সি পরেই সোমবার সকালে দোকানে হাজির তিনি। বললেন, ‘কী করব, কিছুতেই জার্সিটা খুলতে ইচ্ছে করছে না। বিশ্বজয়ের স্মৃতি মিশে রয়েছে কিনা!’
সবরমতী রিভারফ্রন্ট, অটল সেতু, গান্ধী আশ্রম, আদালাজ স্টেপ ওয়েলের মতো ট্যুরিস্ট স্পটে এদিন আবার নীল জার্সির ভিড়। যাঁরা খেলা দেখতে এসেছিলেন, তাঁরা মনের আনন্দে ঘুরছেন-ফিরছেন। স্টেশনে, বিমানবন্দরেও ভিড় সমর্থকদের। এবার তৃপ্ত মনে ঘরে ফেরার পালা। এয়ারপোর্টে সেভাবেই দেখা দমদমের দেবাশিসের সঙ্গে। পিঠে ‘কোহলি’ লেখা। বললেন, ‘এটা তিন বছর আগের ওডিআই ফাইনালের সময় কেনা। সেবার চোখের জলে বাড়ি ফিরেছিলাম। এবার শাপমুক্তি হল।’ আর এক বাঙালি, প্রীতম সাধুও আনন্দে ডগমগ হয়ে পৌঁছালেন এয়ারপোর্টে। ফ্লাইট লেট তো কী, মনটা তো ফুরফুরে। কেউ কেউ মজার সুরে বলছেন, এই প্রথমবার নারী দিবসে চ্যাম্পিয়ন হল পুরুষরা!
ভারতের টিম হোটেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সারারাত ধরে চলেছে উৎসব। ক্রিকেটাররা যে যাঁর মতো করে ট্রফি নিয়ে পোজ দিয়েছেন। গ্রুপফটোও উঠেছে বিস্তর। স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে পিচেই ছবি তুলেছেন অক্ষর। সূর্যর স্ত্রীও হাজির ছিলেন মাঠে। বাড়ি ফেরার আগে উৎফুল্ল ‘স্কাই’ পোস্ট করেছেন, ‘এটা শুধু একটা দল নয়, একটা পরিবার। এটা নিছক ট্রফি জয়ও নয়। বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপ্নপূরণ।’ এবার টিম ইন্ডিয়ার চাঁদমারি যে ওলিম্পিকসের সোনা, সেটাও জানিয়েছেন গর্বিত ক্যাপ্টেন। অর্থাৎ, এবার ‘মিশন গোল্ড’!