


লন্ডন: ফরাসি ওপেনের পর উইম্বলডন। পরপর দু’বার গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে মুখোমুখি জানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাজ। গত মাসেই রোলাঁ গারোয় দু’সেট পিছিয়ে থাকা অবস্থায় তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্টের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অবিশ্বাস্যভাবে লড়াইয়ে ফিরেছিলেন আলকারাজ। ৫ ঘণ্টা ২৯ মিনিটের ম্যারাথন লড়াইয়ে স্প্যানিশ তারকা হারান সিনারকে। সেই হারের ধাক্কা সামলাতে কয়েকদিন পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যেই কাটাতে হয় ইতালিয়ান তারকাকে। তবে তিনি যে ভেঙে পড়েননি, তার প্রমাণ উইম্বলডনের ফাইনালে ওঠা। নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের এক নম্বর সিনার চাইবেন সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে। এমনিতেও মুখোমুখি সাক্ষাতে আলকারাজের চেয়ে ৪-৮ পিছিয়ে তিনি। ২৩ বছর বয়সি হেরেছেন শেষ পাঁচটি দ্বৈরথেই। তবে পরিসংখ্যান যতটা একপেশে দেখাচ্ছে, লড়াই মোটেও তা হয়নি। পাঁচটা জয়ের মধ্যে চারটিতেই আলকারাজ বাজিমাত করেন পঞ্চম সেটে। তারমধ্যে দু’টিতে টাই-ব্রেকারের প্রয়োজন পড়ে। রবিবার উইম্বলডনের ফাইনালে তেমনই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অপেক্ষায় টেনিসপ্রেমীরা।
আলকারাজের সামনে আবার হ্যাটট্রিকের হাতছানি। আগের দু’বারই সেন্টার কোর্টে তিনিই শেষ হাসি হেসেছিলেন। এবারও দু’নম্বর বাছাই সেই লক্ষ্য নিয়েই পা রেখেছেন উইম্বলডনের আসরে। তবে ফাইনালে তাঁর সামনে শীর্ষ বাছাই সিনার। ২২ বছরের আলকারাজ ইতিমধ্যেই জিতেছেন পাঁচটা গ্র্যান্ড স্ল্যাম। একবছরের বড় সিনারের ক্যাবিনেটে রয়েছে তিনটি। দুই ফাইনালিস্টের মিলিত বয়স ৪৫। রজার ফেডেরার ও রাফায়েল নাদালের সঙ্গে বারবার তুলনায় চলে আসছেন সিনার-আলকারাজ। টেনিস সার্কিটে এখন এই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে রোমাঞ্চিত।
টানা ২৪ ম্যাচে জয়ী আলকারাজ। অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো দৌড়চ্ছেন। আত্মবিশ্বাসেও ভরপুর। র্যাকেট হাতে কখন কোন শট মারবেন, আগাম ধরা মুশকিল। আর সেখানেই তিনি অনন্য। অন্যদিকে, জোরালো সার্ভ শক্তি সিনারের। কিন্তু ফরাসি ওপেনের ধাক্কা সামলে তিনি কি পারবেন উইম্বলডন জিততে? টেনিস মহল এই প্রশ্নেরই উত্তরের খোঁজে।