


সবুজ বিশ্বাস, সূতি: যুবসাথী ভাইবোনদের এটা হাত খরচ। এর জন্য কারও কাছে হাত পাতার দরকার নেই। যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা শীঘ্রই টাকা পাবেন। প্রসেসিংয়ের কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সূতির ছাপঘাটি কেডি হাইস্কুল মাঠের জনসভা থেকে এই বার্তাই দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় প্রার্থী ইমানী বিশ্বাস, রঘুনাথগঞ্জের প্রার্থী মন্ত্রী আখরুজ্জামানের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় যুবসমাজের জন্য নেত্রীর এই ঘোষণা শোনার পরেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা ময়দান। এদিনের সভায় আট থেকে আশির উপস্থিতি কার্যত জনসমুদ্রের রূপ নেয়। এদিনের সভায় যুবকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। এদিন মাঠে কার্যত যুবসাথীদেরই ভিড় বেশি ছিল।
এদিন নির্বাচনী প্রচারের সুর বেঁধে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের উন্নয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার উপর জোর দেন তিনি। বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি সাফ জানান, কাজ যাঁরা করেন, কুৎসা তাঁদের পিছু ছাড়ে না। কিন্তু, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ থাকলে কোনো বাধাই ধোপে টিকবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সভামঞ্চ থেকে যুব ভাইবোনদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন। এটা হাত খরচের জন্য দেওয়া। কিন্তু, আগামী দিনে তাদের কর্মসংস্থানেরও আশ্বাস দেন। ইতিমধ্যে যে সমস্ত যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের আশ্বস্ত করে নেত্রী জানান, নির্বাচনের জন্য কাজকর্ম কিছুটা স্লথ গতিতে চলছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। শীঘ্রই তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদান পৌঁছে যাবে। এদিন জনসভায় আসা যুবক হাকিম মোমিন বলেন, আমি যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করেছিলাম আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। সুরভী মণ্ডল বলেন, আমি আবেদন করেছি। এখনো টাকা ঢোকেনি। দিদি বলেছেন কিছুদিনের মধ্যেই পাব। সেটা জেনে আশ্বস্ত হলাম।
পাশাপাশি কন্যাশ্রী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ জনহিতকর প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে এদিন তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন। সূতি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ইমানী বিশ্বাসকে ঘরের ছেলে হিসেবে অভিহিত করে তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান মমতা।
এদিন কড়া রোদের তোয়াক্কা না করেই সকাল থেকে ছাপঘাটি হাইস্কুল মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে যুবকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যের প্রতিটি ছত্রে এদিন ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। সভার শেষে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা, যা দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সূতির নির্বাচনী লড়াইয়ে ঘাসফুল শিবির অনেকটাই মাইলেজ পেয়ে গেল। সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা জঙ্গিপুরের সংসদ সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, দিদি যে কথা দেন তা রাখেন। দিদির জনমুখী প্রকল্পগুলির সুফল বাংলার সব মানুষ পাচ্ছে।