


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ভোট শেষ হতেই ফল নিয়ে অঙ্ক কষা শুরু গৌড়বঙ্গের রাজনৈতিক দলগুলির। প্রদত্ত ভোটের বিভিন্ন পাটিগণিত বিশ্লেষণ করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি পৃথকভাবে দাবি করেছে, ফল তাদের পক্ষেই হবে। অন্যদিকে, কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট নেতৃত্বের দাবি, অভাবনীয় ভালো ফল করবে তারাও। গত বিধানসভা নির্বাচনের মতো এবার শূন্য হাতে ফিরতে হবে না তাদের।
মালদহে এদিন পাড়ায় পাড়ায় চায়ের দোকানে মোড়ে মোড়ে দেখা গিয়েছে ভোট কেন্দ্রিক আড্ডা। কোথাও কোথাও তাতে যোগ দিয়েছেন প্রার্থীরাও। জেলায় ভোটের হার ৯৩.৭৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে মালদহের বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রে। এখানে ভোটদানের হার ৯৪.৮১ শতাংশ। বর্তমানে আসনটি তৃণমূলের দখলে রয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম হলেও ৯০.৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে বিজেপির দখলে থাকা ইংলিশবাজারে।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সির দাবি, মালদহের ৮টি থেকে ৯টি আসনে জিতবেন তৃণমূল প্রার্থীরা। অন্যদিকে বিজেপির মালদহ উত্তর এবং দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার দুই সভাপতি প্রতাপ সিংহ এবং অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল দু’টির বেশি আসন পাবে কি না সন্দেহ। জেলায় বিজেপি সাত থেকে আটটি আসন পেতে চলেছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
অন্যদিকে, সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অম্বর মিত্র বলেন, আমাদের ফল খুবই ভালো হবে। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ঈশা খান চৌধুরীর অনুমান, তাঁর দল মালদহে চার থেকে ছয়টি আসন পেতে পারে।
প্রথম দফায় ভোট মিটতেই ভোটের ফলাফল নিয়ে চর্চা শুরু উত্তর দিনাজপুরে। কে কোথায় ভালো পরিমাণে ভোট পেয়েছে? ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের প্রবণতা নিয়ে আলাপ আলোচনার শেষ নেই। তবে বেশিরভাগ মানুষের বক্তব্য, জেলায় পাল্লা ভারী তৃণমূলেরই। তৃণমূল প্রার্থীরাও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসআইআরে লাইনে দাঁড়ানোর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবার ভোটে পড়েছে। ভোট ভাগাভাগির থেকেও এক জায়গায় ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষ তৃণমূলের পক্ষে ভোট করেছে বলে দাবি তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। রায়গঞ্জ, ইটাহার, করনদিঘী, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, ইসলামপুর, চোপড়া, চাকুলিয়া, গোয়ালপোখর বিধানসভায় তৃণমূল জয়যুক্ত হচ্ছে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৬ আসনের ভোট অংক নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। গত বিধানসভায় বালুরঘাট, তপন এবং গঙ্গারামপুর বিজেপির দখলে ছিল। বাকি কুমারগঞ্জ, কুশমণ্ডি এবং হরিরামপুর তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ছিল। এবার হরিরামপুর, কুমারগঞ্জে বেশি নাম বাদ পড়েছে। নাম বাদ পড়া বিধানসভাতেই বেশি ভোট পড়েছে এবার। জেলায় সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কুশমণ্ডিতে- ৯৬.৫০ শতাংশ। হরিরামপুর ৯৬ শতাংশ, কুমারগঞ্জের ৯৫.৮৮ শতাংশ, গঙ্গারামপুরে ৯৫.৪৯ শতাংশ, তপনে ৯৫.১০ শতাংশ এবং বালুরঘাটে ৯৩.৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এসআইআর আবহে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়ায় ফলের আগে অঙ্ক মেলাতে বসেছে তৃণমূল ও বিজেপি শিবির।
নতুন করে প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে হিসেব কষা শুরু করেছেন তৃণমূল এবং বিজেপি নেতারা। তবে আশাবাদী দুই শিবিরই। এই ব্যাপারে তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, সব জায়গাতেই নাম কাটা গিয়েছে। ফলে ভোটদানও বেশি দিয়েছে। আমরা আশাবাদী জেলার ছয় আসনে আমাদের দখলে আসবে। বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, এবার আমরা ছয়টি আসনেই জয়ী হব।