


সংবাদদাতা, বোলপুর: অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে আবারও অনিয়মের অভিযোগ উঠল বিশ্বভারতীতে। আগে বাংলা ও ইতিহাস বিভাগে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই তালিকায় সংযোজন হল ভাষা ভবনের ইংরেজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ। একাধিক আবেদনকারীর দাবি,নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, যোগ্য প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের কাছে ই-মেল করে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে, এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি বলে দাবি অভিযোগকারীদের। যদিও বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ বলেছেন, ‘ইউজিসি’র নিয়ম মেনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এসব অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।’
জানা গিয়েছে, গত বছর ২৭ মে বিশ্বভারতী একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে ভাষা ভবন, বিদ্যাভবন ও শিক্ষাভবন সহ একাধিক বিভাগে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদে আবেদন চাওয়া হয়। ইতিমধ্যেই কয়েকটি বিভাগের ইন্টারভিউয়ের প্রাথমিক তালিকাও প্রকাশ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (অসংরক্ষিত) পদে নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারী সেখ সাগির আলি। তিনি মেদিনীপুর কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তাঁর দাবি, আবেদন করার সময় তিনি প্রামাণ্য সব নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু, চলতি বছরের ২ মার্চ প্রকাশিত প্রভিশনাল স্ক্রিনিং কমিটির রিপোর্টে ইন্টারভিউয়ের তালিকায় তাঁর নাম নেই। জানা গিয়েছে, মোট ৬০ জন আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ১২ জনকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছে।
এরপর সাগির আলি বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাঁরা ইন্টারভিউয়ের ডাক পাননি তাঁরা যেন আবার সমস্ত অ্যাকাডেমিক নথি জমা দেন। সেই অনুযায়ী তিনি নথিও জমা দেন। কিন্তু পরে তাঁকে জানানো হয়, আবেদন করার সময় পর্যাপ্ত প্রমাণ আপলোড করা হয়নি। তাই পরে জমা দেওয়া নথি গ্রহণ করা যাবে না। একই ধরনের কথা আরও কয়েকজন আবেদনকারীকে জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সাগির আলি বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট স্বচ্ছতা নেই। অনেক যোগ্য প্রার্থী ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। আবার এমন কয়েকজনকে ডাকা হয়েছে, যাঁদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আমরা চাই, যোগ্যদের ইন্টারভিউয়ের সুযোগ দেওয়া হোক এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে হোক।’ একই অভিযোগ তুলেছেন মালদহের মানিকচক কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবাদিত্য মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ইউজিসির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অধ্যাপক পদে আবেদন করার জন্য আমার সব যোগ্যতা রয়েছে। তবুও আমি ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পাইনি। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে সাতটি গবেষণাধর্মী পাবলিকেশন নেই। অথচ আমার তা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটা প্রমাণ করার কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয়নি। তারপরও পাঁচ দিনের মধ্যে পুনরায় সব নথি জমা করতে বলেও তা দেখব না বলে জানিয়ে দেয়। এটা খুব আশ্চর্যজনক। আমরা চাই অধ্যাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রার্থীদের সংক্ষিপ্তকরণের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হোক।’ এছাড়াও আবেদনকারীদের আরও অভিযোগ, দেশের অন্যান্য কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নামের পাশে এপিআই স্কোর উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। তাই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি তুলেছেন তাঁরা।