


নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট: প্রতিদিন দেশে বিপুল সংখ্যক যানবাহন বৈধ বিমা ছাড়াই রাস্তায় চলাচল করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্রকে করে পরীক্ষামূলকভাবে নো ইনস্যুরেন্স, নো ফুয়েল প্রকল্প চালু করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের দাবি বৈধ বিমা ছাড়া যানবাহন চলাচল শুধু আইন ভাঙাই নয় তা সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য বড়ো ঝুঁকি।
বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ জানায়, সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩০ কোটি যানবাহন নথিভুক্ত রয়েছে। তার মধ্যে ১৬ কোটি ৫৪ লক্ষেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫৬ শতাংশ যানবাহনের কোনও বৈধ বিমা নেই। আদালত আরও জানায়, ২০১৮ সালে নতুন চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে তিন বছর এবং নতুন মোটরবাইকের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বাধ্যতামূলক থার্ড পার্টির ইনসুরেন্স করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বিমাহীন গাড়ির সংখ্যা কমেনি। সেই কারণেই এইবার থেকে নতুন চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে চার বছর এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ছয় বছরের থার্ড পার্টির ইনসুরেন্স করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক এবং ইনসুরেন্স নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই -কে এমন একটি পাইলট প্রকল্প তৈরির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেখানে পাম্পে পেট্রোল বা ডিজেল দেওয়ার আগেই গাড়ির ইনসুরেন্স যাচাই করা হবে। বৈধ ইনসুরেন্স থাকলে তবেই সেই গাড়িতে পেট্রোল বা ডিজেল না দেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দেয়, জাতীয় সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বসানো অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন এএনপিআর ক্যামেরাকে ইনসুরেন্সের ডেটাবেস এবং বাহান পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে পুলিশকে একটি মোবাইল অ্যাপ বা ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে ঘটনাস্থলেই ইনসুরেন্স যাচাইয়ের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্র, আইআরডিএআই সহ সব পক্ষকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৮ আগস্ট ।