


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: শুধু জেন জি নয়। হাতছাড়া হচ্ছে উচ্চবর্ণও! অর্থাৎ, বিজেপির একান্ত নিজস্ব ভোটব্যাংক। গেরুয়া শিবির বিলক্ষণ বুঝছে, এই প্রবণতা আতঙ্কজনক। আর তাই, বিহার ও মধ্যপ্রদেশের উপনির্বাচনের ফল নিয়ে বিজেপির অন্দরেই উঠছে প্রশ্ন। এই পরাজয়ের দায় কার? বিদ্রোহের সুর শরিক তো বটেই, দলেরও মধ্যে। পরোক্ষে নিশানা নরেন্দ্র মোদিকেই। রাখঢাক না করে জেডিইউয়ের হেভিওয়েট বিধায়ক অনন্ত সিং বলেছেন, ‘নীতীশ কুমারকে যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটা বিহারবাসী পছন্দ করেনি। এই ফলাফল তার প্রমাণ। ২০২৫ সালে বিহারে বিপুল জয় হয়েছিল নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে। আর তাঁকে সরানো মাত্রই বিজেপির এই বিপর্যয়।’ নিজের দলের পক্ষ থেকেও কটাক্ষ করা হয়েছে মোদিকে। মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ তিওয়ারি কর্মিসভায় বলেছেন, ‘আমি পরাজিত হয়েছি ঠিকই। কিন্তু এটা বলব না যে—ঝোলা নিয়ে এসেছি, ঝোলা নিয়ে চলে যাব। আমি ঝোলা নিয়ে এলেও কোথাও যাব না। আপনাদের সঙ্গেই থাকব। আমি মনে করি, জনতা জনার্দন সব।’ রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই উক্তি সরাসরি মোদিকে টার্গেট। কারণ, এটি মোদিরই বিখ্যাত উদ্ধৃতি। তিনি গত ১২ বছর ধরে এই মন্তব্যটি করে থাকেন জনসভায়—‘আমি ফকির মানুষ, ঝোলা নিয়ে এসেছি, ঝোলা নিয়ে চলে যাব।’
এই পরিস্থিতিতে বাঁকিপুর ও দাতিয়ার পরাজয়কে মোটেও স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করছে না বিজেপি। মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে দলের সদর দপ্তর, সর্বত্র একটাই আলোচনা দলের অন্দরে—কেন এই বিপর্যয়? ভোটারদের দলদাস ভেবে নেওয়া ভুল হয়েছে। যাই হোক না কেন, ভোটব্যাংক আমাদেরই ভোট দেবে, এটা মনে করা নির্বুদ্ধিতা। বাঁকিপুরে দায়ী করা হয়েছে প্রার্থী নির্বাচনকে। প্রশান্ত কিশোর হাই প্রোফাইল এক উচ্চবর্ণের নেতা। তাঁর উত্থাপিত ইস্যুর সঙ্গে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত, সকলেই একমত হয়েছে। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হল কি না একজন সাধারণ অজানা কর্মীকে! সবথেকে বিপজ্জনক বার্তা হল, বাঁকিপুরের ৪২২ বুথের মধ্যে ৪০০ বুথেই প্রশান্ত কিশোর জয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ, বিজেপির নিজের ভোটব্যাংক সম্পূর্ণ সরে গিয়েছে! গুজরাতে দল জয়ী হয়েছে ঠিকই। কিন্তু মার্জিন কমেছে ৭৪ হাজার! গুজরাত বিজেপি চিন্তিত। কারণ, আগামী বছর বিধানসভা ভোট রাজ্যে। এই প্রবণতা উদ্বেগজনক। বিজেপির মধ্যে এই মুহূর্তে সবথেকে বড়ো প্রশ্ন—এই যে দলের ভোটব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, এর দায় কার? বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য বলেছেন, ‘আমাদের আরও বেশি করে মানুষের কাছে যেতে হবে।’