


ইসলামাবাদ, ৯ জুন: ভয়াবহ পরিস্থিতি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। আমজনতার সঙ্গে পাকিস্তানের সেনার সংঘর্ষে মৃত্যু হল ১১ জনের। জখম ৭০ জনেরও বেশি। ইতিপূর্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল নাগরিক সমাজ জোটের জয়েন্ট অ্যাকশন আওয়ামি কমিটি বা জেএএসি-কে। তারই প্রতিবাদে আজ, মঙ্গলবার রাওয়ালকোটে ধর্মঘটের ডাক দেন তাঁরা। এলাকার একটি হাসপাতালের মর্গের সামনে জমায়েত করেন। সেখানে রাখা ছিল পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হওয়া এক সমাজকর্মীর দেহ। শান্তিপূর্ণভাবেই সেখানে অবস্থান বিক্ষোভ করছিলেন জেএএসির কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, সেই জমায়েতকে ছত্রভঙ্গ করতে আচমকাই তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে পাক রেঞ্জার ও পুলিশরা। গুলিতে অকুস্থলেই মৃত্যু হয় কয়েকজন বিক্ষোভকারীর। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এরপরই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীদের সঙ্গে পুলিশ-রেঞ্জারদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী সংঘর্ষ এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ জন পুলিশ কর্মীও রয়েছেন। এই ঘটনায় ২০ জন পুলিশ কর্মী ছাড়াও জখম হয়েছেন ৫০ জন সাধারণ মানুষ। তবে স্থানীয়দের দাবি, হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। পরিসংখ্যান সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রকাশ করেছে পাক সেনা। উল্লেখ্য, বেশ কয়েক বছর ধরেই জেএএসি পাক ভূখণ্ডে মূল্যবৃদ্ধি, খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বেকারত্ব-সহ নানা ইস্যুতে আন্দোলন চালাচ্ছে। সম্প্রতি এই নাগরিক সমাজ জোটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁদের এক কর্মীরও। এরপর আন্দোলন আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে আজ, ৯ জুন রাওয়ালকোটে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল তাঁরা।