


সুকান্ত বেরা, চেন্নাই: অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকায়ে যায়। প্রবাদটা ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে খুবই খাটে। এতদিন চিন্তা ছিল ব্যাটিং। টি-২০ বিশ্বকাপের শুরুতে অভিষেক শর্মার শূন্যের হ্যাটট্রিক। আচমকা ঈশান কিষানও হারিয়ে ফেলেন ছন্দ। তিলক ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়াদের নিয়েও হতাশা ক্রমশ বাড়ছিল। উদ্বেগ কাটিয়ে চেন্নাইয়ে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে রেকর্ড ২৫৬ রান তুলে জিতেছে ভারত। হাফ সেঞ্চুরি করলেন অভিষেক। সফল হার্দিক। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে স্বস্তি দিলেন তিলক। তবে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে চিন্তা বাড়াল বোলিং। ওপেনার ব্রায়ান বেনেটের সামনে বড়ই অসহায় দেখাল শিবম দুবে, বরুণ চক্রবর্তীদের। তাই ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অস্তিত্বের ম্যাচে নামার আগে হঠাৎ বোলিং নিয়ে চিন্তায় টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচ শেষে দেখা গেল বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল আলাদাভাবে কথা বলছেন দুবের সঙ্গে। কারণ, ২ ওভারে তিনি দিয়েছেন ৪৬ রান। বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর প্যাটেলরাও প্রত্যাশার ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেননি।
রবিবার ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে ইডেনে ‘কোয়ার্টার’ ফাইনাল। শেষ চারে জায়গা পাকা করার একটাই শর্ত— জিততে হবে। বিপক্ষ দলে রয়েছেন ব্রেন্ডন কিং, শিমরন হেটমায়ার, সাই হোপ, রভম্যান পাওয়েল, রাদারফোর্ড, রোমারিও শেফার্ড, হোল্ডারের মতো মারকুটে ব্যাটার। ইডেনে আগেই বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছেন ক্যারিবিয়ানরা। পিচ ও পরিবেশ সম্পর্কে ড্যারেন স্যামির প্রশিক্ষণাধীন দলটির ভালোই ধারণা রয়েছে। এমনিতে টি-২০’তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সব সময় ভয়ঙ্কর। তাই নতুন বলে বুমরাহই বড় ভরসা। বাঁ হাতি অর্শদীপও নিয়মিত উইকেট নিচ্ছেন। স্পিন আক্রমণের দুর্বলতা ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল মিডল ওভারে বরুণ উইকেট নিচ্ছিলেন বলে। কিন্তু গত দু’টি ম্যাচে মিস্ট্রি স্পিনারও ব্যর্থ। কেকেআরে খেলার সুবাদে ইডেন তাঁর সেকেন্ড হোম। জানেন, বল কোন জায়গায় রাখলে বিদ্ধ করা যাবে ব্যাটারকে। বরুণের ফর্মে ফেরার উপর ভারতের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে।
অর্শদীপ সিংয়ের কথা শুনে অবশ্য মনে হল, তিনি ক্যারিবিয়ানদের নিয়ে বেশি ভাবতে রাজি নন। চিপকের মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দেখছিলাম। হোটেলের রুমে বসে বাবাও খেলা দেখছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছক্কা মারলেই উনি চিৎকার করে বলছিলেন, কি করছে ওরা? আমি বললাম, তুমি খেলাটা উপভোগ কর। দক্ষিণ আফ্রিকাই জিতবে। সত্যিই, প্রোটিয়ারা জেতায় আমাদের কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায় জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ভালো খেলেছে। আমাদেরও হারিয়েছে। ফাইনালে ওদের হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’
আশা বাঁচিয়ে রাখতে সবার আগে ভারতকে টপকাতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গাঁট। এই বোলিং নিয়ে কি মারকুটে ক্যারিবিয়ানদের থামানো যাবে? অর্শদীপ সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলব। গত দু’বছর ধরে এই ক্রিকেটই খেলেছি। বিশ্বকাপে পছন্দ মতো উইকেট পাওয়া যাচ্ছিল না। জমাট বাঁধছিল না ব্যাটিং। জিম্বাবোয়ে ম্যাচে সেই চিন্তা কেটেছে। ২৫০-২৬০ রান স্কোরবোর্ডে থাকলে অনেকটাই চাপমুক্ত হয়ে বল করা যায়। আমরা জানি, এই ধরনের পিচে বোলারদের কাজটা কঠিন। তবে আমাদের ব্যাটাররা যাতে বড় রান করতে পারে, তার জন্য এটুকু ব্যথা আমরা সহ্য করতে প্রস্তুত।’