


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে উপভোক্তাদের অন্তর্ভুক্তি করাতে যুক্ত করা হয়েছে আশাকর্মীদের। প্রকল্পের জন্য তৈরি করা হয়েছে তিনধরনের আবেদনপত্র। তার মধ্যে একটি আবেদনপত্রে আগে থেকেই উপভোক্তার নাম এবং আধার নম্বর উল্লেখ করা রয়েছে। রেশন কার্ড বেছে সরকারের ঠিক করে দেওয়া সেই উপভোক্তাদের নাম যুক্ত আবেদনপত্র নিয়েই কাজে নামানো হয়েছে আশাকর্মীদের। প্রত্যেক আশাকর্মীকে দৈনিক ৫০ উপভোক্তার বাড়ি যাওয়ার টার্গেট দেওয়া হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে ওই ‘প্রি ফিল’ আবেদনপত্র বিলি করে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থেকে উপভোক্তাদের আয়ুষ্মান ভারতে অন্তর্ভুক্ত করানোর নির্দেশ। এত কম সময়ের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করা কীভাবে সম্ভব তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে খবর, এই কাজে নামানো হয়েছে ৫৮০ আশাকর্মীকে। পুরসভার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ‘প্রি ফিল’ বা আগে থেকে নাম যুক্ত আবেদনপত্রগুলি রাজ্যের তরফেই পাঠানো হচ্ছে। যাঁরা কেন্দ্রের খাদ্যসুরক্ষা আইনের আওতায় রেশন পান, তাঁদের নামযুক্ত আবেদনপত্র আসছে। সেই নির্দিষ্ট ফর্ম নিয়ে আশাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। যাবতীয় তথ্য সেখানে লিখে নিয়ে আসছেন। আশাকর্মীদের এ কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সেগুলি সংগ্রহ করে নিয়ে আসছেন। এরপর স্ক্রুটিনি হবে। এসআইআরে নাম আছে কি না দেখা হবে। আরও নানারকম ছাঁকনি আছে। সে কাজ করে আবেদনপত্রগুলি উপরের স্তরে পাঠানো হবে। তারপর কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরবর্তীকালে সে বিষয়ে নির্দেশ দেবে নবান্ন।
পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, এই অবস্থায় অন্ত্যোদয় যোজনা সহ কেন্দ্রের খাদ্যসুরক্ষার আওতাভুক্ত রেশন কার্ড কত সংখ্যক রয়েছে, তার হিসেব পুরসভার কাছে নেই। নবান্ন থেকে নিয়মিত সেগুলি পাঠানো হচ্ছে। রোজ এক একটি লটে অন্তত ৬০০টি করে ‘প্রি ফিল’ ফর্ম পাঠানো হচ্ছে। সেগুলি বিলির জন্য আশাকর্মীদের প্রতিদিন ৫০টি বাড়ির টার্গেট দেওয়া হয়েছে। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে তা পূরণ করাই এখন চিন্তার। তবে রোজ ৫০ উপভোক্তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও দিনে অন্তত ৩০টি বাড়ি যেন কভার করা হয় সে কথা বলা হয়েছে। এই কাজের জন্য রাজ্যের তরফে আশাকর্মীদের বাড়তি সাম্মানিক ধার্য হয়েছে বলে খবর। যদিও সেই টাকার পরিমাণ কত, কবে দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়। সেই সংক্রান্ত কোনো নির্দেশিকাও নেই।