


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: কয়েকদিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়েছিলেন। দেওয়া হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। একইসঙ্গে তাঁকে দলের জাতীয় কর্মসমিতিতেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা ছিল, অভিজ্ঞ এই নেতার উপর এখনও আস্থা রাখছে শাসক দল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের অল্প দিনের মধ্যেই একদম ইউ-টার্ন তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুর।
তৃণমূল কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দলকে চিঠি পাঠিয়ে সব সাংগঠনিক পদ থেকে আজ সরে দাঁড়ালেন। গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয়কে জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করা হয়েছিল। সেই পদ তিনি আজ ত্যাগ করলেন। তাঁর বক্তব্য ' আমার ৩৫০ -এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই এই অবস্থায় দলের কোনো কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ব্লু আইড বয়' ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। বালু নামেই তাঁকে বরাবর ডেকে এসেছেন তৃণমূল নেত্রী। ১৯৭৮ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী বালু। গাইঘাটা, হাবরা থেকে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। পরবর্তীতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি পদে দীর্ঘদিন সামলেছেন গুরু দায়িত্ব। জেলার প্রত্যেকটি কর্মীর সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগের নিরিখে বালু হয়ে উঠে ছিলেন দক্ষ সংগঠক। এমনকি উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় কোনো কর্মসূচি নেওয়ার আগে বালুকেই প্রথম ফোন করতেন মমতা। বালুও কোনদিন নেত্রীর প্রতি বিরুদ্ধাচারণ করেননি। নেত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে গিয়েছেন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি এবং দলের নেতাদের আচরণ দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন শরীরও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে তাঁর। বাড়িতে বসে নিজেই জানালেন, 'আর কতদিন বাঁচব জানি না। নেত্রীর প্রতি আজীবন শ্রদ্ধা থাকবে। তবে আমার এখন যা শারীরিক অবস্থা তাতে দলের কোনো কাজ করতে পারব না। চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হবে। নেত্রী হয়তো সেটা বুঝতে পারবেন'।
দলের অন্দরে তিনি এক সময় অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে রেশন দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। সেই সময়ও দল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার প্রকাশ্যে দাবি করেন, তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হয়েছে । এই সবকিছুকেই উপেক্ষা করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া কেন্দ্র থেকে তাঁকেই প্রার্থী করে দল। তবে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি তিনি। পরাজয়ের পর থেকেই দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কমে যায়। সবশেষে জাতীয় কর্মসমিতিতে অন্তর্ভুক্তির পরও হঠাৎ সব পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। যদিও তিনি নিজে স্পষ্ট করেছেন, শারীরিক অসুস্থতাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ।