


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অঙ্গ-ভঙ্গি এবং বিতর্কিত শব্দ উচ্চারণ করে আক্রমণ করেছেন বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তিনি ‘বাগেশ্বর বাবা’ নামেই পরিচিত। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বাগেশ্বরের করা ওই মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। সেখানে দেখা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা কুণাল ঘোষ থেকে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ, একযোগে বাগেশ্বরের ওই বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন।
বাঙালি কী খাবে, বাগেশ্বর এর আগে মন্তব্য করেছিলেন তা নিয়ে। তার তীব্র প্রতিবাদ করে আপামর বাঙালি। মাছে-ভাতে বাঙালি, এটাই তুলে ধরে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। আর এবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বাগেশ্বর বাবার ওই বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরে নিন্দায় সরব হন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অপমান করেছেন বাগেশ্বর। এর আগে বাঙালি সম্পর্কে কটূক্তি করেছিলেন তিনি। আর এবার তিনি সরাসরি নিশানা করেছেন স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে! ওঁর ওই মন্তব্য ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছে। ঈশ্বরের কোনো তুলনা হয় না। কিন্তু বাগেশ্বর ঈশ্বরের তুলনা টেনে হিন্দু সমাজের মধ্যে বিভাজন ধরানোর চেষ্টা করেছেন। কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য কেন ওঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?
পাশাপাশি বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ সরাসরি বাগেশ্বরের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, উনি ভগবান রামচন্দ্রের প্রশংসা করুন কিন্তু ভগবানের অন্য রূপ নিয়ে ওঁর মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। এর নিন্দা ও বিরোধিতা করছি। ওঁর এই দুঃসাহস হয় কোথা থেকে? রামকে বেশি পছন্দ করেন বলে কি উনি নিজেকে হনুমান ভাবছেন? আর উনি কিন্তু বিজেপির মণ্ডল সভাপতি নন। ফলে বিরোধীরা যেন বাগেশ্বরকে বিজেপির সঙ্গে গুলিয়ে না দেন।
অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি বলেন, ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করে বাগেশ্বর বাবা হননি। তিনি বিখ্যাত হয়েছেন রাজনৈতিক সূত্রে। এক ভগবানের সঙ্গে অন্য ভগবানের তুলনা টানা অনুচিত। উনি যেভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন, এরপর কি আর বিজেপি নেতারা ওঁকে বাংলায় ডেকে আনবেন?