


নয়াদিল্লি: ২২ বছর মহাশূন্যে থাকার পর পৃথিবীর দিকে ফিরে আসছে নাসার একটি ১.৫ টন (১৩৬০ কেজি) ওজনের মহাকাশ টেলিস্কোপ। নাম ‘নিল গেহরলস সুইফ্ট অবজারভেটরি’। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় টেলিস্কোপের অধিকাংশ যন্ত্রাংশ পুড়ে যাবে। তারপরেও উদ্বেগ থাকছে। কারণ, বেশকিছু অংশ পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। সম্ভাব্য অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে হায়দরাবাদ, মুম্বই সহ ভারতের একাধিক শহর। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আজ স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ (ভারতীয় সময় বুধবার দুপুর ২টো) বায়ুমণ্ডলে টেলিস্কোপটি প্রবেশ করতে পারে। এই সময়ের ১১ ঘণ্টা আগে বা পরেও তা ফিরতে পারে।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে টেলিস্কোপের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তবে কিছু অবশিষ্ট যন্ত্রাংশ পৃথিবীতে পড়তে পারে। অভিযানের প্রধান বিজ্ঞানী ব্র্যাড চেঙ্কো জানিয়েছেন, পুনঃপ্রবেশ অঞ্চলে আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক অংশ রয়েছে। পৃথিবীর মাঝের অংশের এই বিশেষ অঞ্চলটি একটি বলয়ের মতো। ভারতের ক্ষেত্রে পশ্চিম উপকূলের দমন থেকে পূর্ব উপকূলের কটক পর্যন্ত রয়েছে এই অঞ্চল। সেক্ষেত্রে মুম্বই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই মতো শহর এই কাল্পনিক বলয়ের মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বায়ুমণ্ডলের প্রবেশের সময় টেলিস্কোপের অবস্থান দেখেই সবকিছু স্পষ্ট বোঝা যাবে। মহাকাশ থেকে ফিরে আসা বস্তুর গতিপথ বুঝতে ভারতের নিজস্ব পরিকাঠামো রয়েছে। শ্রীহরিকোটায় ইসরোর মাল্টি অবজেক্ট ট্র্যাকিং রাডার এই কাজ করে থাকে। তবে নাসার টেলিস্কোপের ক্ষেত্রে সেটি ব্যবহার করা হবে কি না তা স্পষ্ট নয়।