


মহারাষ্ট্র, ৫ আগস্ট: ভেজাল দুগ্ধজাত পণ্যের বিরুদ্ধে এইবার কড়া পদক্ষেপ নিল মহারাষ্ট্র সরকার। অ্যানালগ বা নন-ডায়েরি পনিরের উৎপাদন, পক্রিয়াকরণ, প্যাকেটজাতকরণ, মজুত, পরিবহণ, পাইকারি ও খুচরো বিক্রি এবং বিতরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা কমিশনার তুকারাম মুন্ধে। এখনও পর্যন্ত মহারাষ্ট্রকে নিয়ে মোট ২টি রাজ্যে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। এর আগে ছত্তিশগড়ে এইরকম কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন ২০০৬ এর আওতায় ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। পাশাপাশি ভেজাল খাবার খেয়ে কারও যদি মৃত্যু হয় তাহলে দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন মারফত জানা গিয়েছে, ননডেয়ারি পনিরকে আসল দুধের পনির বলে অনেকে বিক্রি করছে। যা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অ্যানালগ পনির সাধারণত দুধের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেল বা চর্বি এবং অন্যান্য নন-ডেয়ারি উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। জানা গিয়েছে গত মে মাস থেকে মহারাষ্ট্রের রাজ্য জুড়ে ভেজাল দুধ এবং নকল পনির তৈরির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। যার ফলে ধারাবাহিক তল্লাশি ও পণ্য বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা ঘটেছে। পুনের মাঞ্জারি খুর্দ এলাকার একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে নকল পনির তৈরির একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। প্রায় ১,৪০০ কেজি নকল পনির বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ওই গুদাম থেকে। তদন্তকারীদের মতে সস্তা বিকল্প উপাদান ব্যবহার করে এই পনির তৈরি করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১,৮০০ কেজি স্কিমড মিল্ক পাউডার, ৪০০ কেজি গ্লিসারল মনোস্টিয়ারেট পাউডার এবং ৭১৮ লিটার পাম অয়েল। মুম্বই ও মহারাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকায় অস্বাস্থ্যকর রেস্তোরাঁ ও হোটেলের বিরুদ্ধে জোরদার পরিদর্শন ও আইনি পদক্ষেপ নিতে নকল পনিরের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।