


দুবাই: পাকিস্তানের সঙ্গে জোট বেঁধেও মুখরক্ষা হল না বাংলাদেশের। আইসিসি’র সভায় ফুৎকারে উড়ে গেল তাদের ছেঁদো দাবি। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার বায়নাকে পাত্তাই দিল না বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। আর এই সিদ্ধান্ত যে পক্ষপাতদুষ্ট নয়, সদস্য দেশগুলির ভোটাভুটির ফলেই তা প্রমাণিত। মোট ১৬টি ভোটের মধ্যে মাত্র দু’টি গিয়েছে বাংলাদেশের দাবির পক্ষে। অর্থাৎ, পাকিস্তান ছাড়া কেউই তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। পদ্মাপারের দেশটির গোঁয়ার্তুমিতে বিরক্ত আইসিসি বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কাপযুদ্ধে অংশ নিতে হলে ভারতেই আসতে হবে। অন্যথায়, তাদের বাদ দিয়েই হবে টি-২০ বিশ্বকাপ। সেক্ষেত্রে বিকল্প দল হিসেবে দরজা খুলতে পারে স্কটল্যান্ডের সামনে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য একদিন সময় দেওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। ফলে রীতিমতো চাপে তারা।
বুধবারের সভায় পাকিস্তান বাদে সব সদস্যই বাংলাদেশকে ছেঁটে অন্য দলকে বিশ্বকাপে খেলানোর পক্ষে মত দেয়। ফলে একঘরে হয়ে পড়ে বিসিবি। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় খেলার দাবিতে অনড় ছিল বাংলাদেশ। তাই বুধবারের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে বলা হয়েছিল। তার ঠিক আগে আইসিসি এবং অন্য বোর্ডগুলিকে ইমেল করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তারা এই ইস্যুতে সমর্থন জানায় বাংলাদেশকে। তারপরই সমস্ত পূর্ণ সদস্য দেশের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। সেখানে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলামও ছিলেন। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ তো ছিলেনই। সেখানেই ভোটাভুটিতে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় বাংলাদেশের দাবি।
এদিকে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন লিটন দাস। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি না, কোন দেশে খেলব। কাদের বিরুদ্ধে খেলব, সেটাও অজানা। ফলে প্রস্তুতি ব্যহত হচ্ছে।’ একই সুরে গলা মিলিয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্তও। তাঁর মতে, ‘ক্রিকেটার হিসেবে আমরা অবশ্যই বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাই। কিন্তু বাকিটা আমাদের হাতে নেই।’