


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পুরসভার এক দপ্তর অন্য দপ্তরকে, এক আধিকারিক অন্য আধিকারিকের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, এই বিষয়টি উনি জানেন। কেউ আবার দাবি করছেন, আমি না, তিনি জানেন। বারাসত পুরসভায় পরপর দু’বার গিয়ে এমনই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁর ধারণা, পুরসভার কাজে স্বচ্ছতা নেই। তাই দায় এড়ানোর সংস্কৃতি। এর শিকড়ে পৌঁছাতে আরটিআই করেছেন তিনি।
উত্তর ২৪ পরগনার সদর শহর হিসাবে বারাসতের গুরুত্ব শুধু ভৌগোলিক নয়, প্রশাসনিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। আর এই পুরসভাকে ঘিরেই এবার একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুলছেন বিজেপি বিধায়ক। সম্প্রতি দু’বার বারাসত পুরসভায় গিয়েছিলেন বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, কর্মী নিয়োগ, রাস্তা নির্মাণ, বাড়ি তৈরির অনুমোদন এবং অর্থ-ব্যয়ের নথি সহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ। তাঁর দাবি, প্রতিটি দপ্তরে গিয়েও তিনি কার্যত একই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। স্পষ্ট তথ্য কারও কাছে নেই। কখনও বলা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানে। আবার কখনও বলা হচ্ছে, বিষয়টি অন্য আধিকারিক জানেন। কোনো প্রশ্নের নির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। ধারাবাহিক ভাবেই ‘দায় এড়ানোর’ প্রবণতা চোখে পড়ছে। ফলে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে।
বিধায়কের অভিযোগ, এই পরিস্থিতি নিছক প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা নয়, এর আড়ালে বড়ো ধরনের অনিয়ম লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, রাস্তা নির্মাণ এবং বাড়ি তৈরির অনুমোদন— সব ক্ষেত্রেই অস্বচ্ছতার অভিযোগ সামনে আসছে। বিধায়কের মতে, সাধারণ মানুষের টাকায় পরিচালিত পুরসভার কাছে তথ্য চাওয়ার পরও যদি তা না মেলে, তাহলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। কেন তথ্য গোপন করা হচ্ছে, কেন দায় এড়ানো হচ্ছে, কী এমন রয়েছে, যা সামনে আসতে দেওয়া হচ্ছে না— এই প্রশ্নগুলিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এই পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি তথ্যের অধিকার আইনের (আরটিআই) পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। শংকর বলেন, প্রকৃত সত্য কখনও কথায় নয়, কাগজেই ধরা পড়ে। পুরসভার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছি। আমি কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে চাই না, কিন্তু যেভাবে দায় এড়ানো হচ্ছে এবং তথ্য দিতে অনীহা দেখাচ্ছে, তাতে অস্বচ্ছতা থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তাই সত্য সামনে আনতে ক’দিন আগেই আরটিআই করেছি। নথি হাতে এলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র