


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন বাড়িতে ঢিল ছোড়ার প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্য রাস্তায় তিন ব্যক্তিকে ছুরি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। রবিবার সকালে হাওড়ার বাঁকড়া রসিকল এলাকার পেয়াদাপাড়ায় ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনজনকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের মধ্যে গুরুতর জখম হাসান মীরকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত হয়েছেন তাঁর দুই ভাই নজরু ইসলাম মীর ও নাজিমুল ইসলাম মীর। এই ঘটনায় অভিযুক্ত গুড্ডু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত গুড্ডু শেখের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই পাড়ার বিভিন্ন বাড়িতে ঢিল ছোড়ার অভিযোগ ছিল। মূলত রাত বাড়লেই সে এই কাজ করত। অভিযুক্তের এমন স্বভাবের কারণে প্রায়ই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তার বচসা, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার রাতে একাধিক বাড়িতে ঢিল ছোড়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে হাতেনাতে ধরে সতর্ক করেন। অভিযোগ, সেই সময় গুড্ডু তাঁদের ছুরি মারার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। রবিবার সকালে আচমকা হাতে ছুরি নিয়ে পাড়ায় এসে প্রথমে হাসান মীরের উপর হামলা চালায় অভিযুক্ত। তাঁর পেটে ছুরির আঘাত লাগে। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে নজরু ইসলাম মীর ও নাজিমুল ইসলাম মীরের উপরও এলোপাথাড়ি ছুরি চালানো হয়। দু’জনের হাত ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে প্রথমে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে হাসানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের পরিবারের দাবি, শনিবার রাতে ঢিল ছোড়ার প্রতিবাদ করায় এই হামলা। পরিবারের সদস্যা মীনারা বেগমের অভিযোগ, কাজে বের হওয়ার সময় কোনো প্ররোচনা ছাড়াই হাসানের উপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, ‘উনি কিছুই জানতেন না। আচমকা পেটে ছুরি মেরে দেয়। ভাইরা বাঁচাতে গেলে তাঁদেরও কোপানো হয়। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’