


বার্সেলোনা: ১৮টি ম্যাচে ৭টি হার, ১১টি ড্র। ক্যাম্প ন্যুয়ে এখনও জয়ের খাতা খুলতে পারেননি ডিয়েগো সিমিওনে। দীর্ঘ ১৫ বছরে সিংহভাগ সময় তাঁর রাতের ঘুম কেড়েছিলেন লায়োনেল মেসি। বাঁ পায়ের জাদুকরকে কীভাবে রোখা সম্ভব, তা নিয়ে একাধিক স্ট্র্যাটেজি কষেছেন তিনি। তবে স্বদেশের কিংবদন্তির কাছে বেশিরভাগ সময় বশ্যতা স্বীকার করতে হয়েছে আতলেতিকোর আর্জেন্তাইন কোচকে। এবার সিমিওনের সামনে আর এক শিল্পী লামিনে ইয়ামাল। চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত তরুণ এই স্প্যানিশ উইঙ্গারকে শান্ত রাখতে ব্যর্থ তিনি। বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগের আগে তাই ইয়ামাল কাঁটা উপড়ে ফেলতে মরিয়া আতলেতিকো মাদ্রিদ। কারণ গত কয়েক ম্যাচে গ্রিজম্যান-কোকেদের পারফরম্যান্স মোটেই পাতে দেওয়ার মত নয়। বার্সার বিরুদ্ধে চারবারের মধ্যে তিনবারই বশ মেনেছে তারা। শুধু তাই নয়, সব টুর্নামেন্টে মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচ হেরে বুধবার নামছে আতলেতিকো। সিমিওনে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, ‘নিজেদের উপর আস্থা রাখতে হবে। বার্সাকে ঘরের মাঠে হারানো সহজ নয়। তবে আমাদের প্রচেষ্টায় কোনও খামতি নেই।’
গতবার হান্স ফ্লিকের প্রশিক্ষণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ খেলেও শেষ চারে থেমেছিল বার্সার অভিযান। ইন্তার মিলানের কাছে হার সেদিন মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। বছর ঘুরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্নে বিভোর কাতালুনিয়ানরা। এখনও পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দাপুটে ফুটবল মেলে ধরেছেন লিওয়ানডস্কি-ইয়ামালরা। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নিউকাসলকে ৮-৩ গোলে দুরমুশ করেন তাঁরা। তাই বুধবার আরও একবার আতলেতিকোর বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়াই লক্ষ্য তাদের। কারণ, কোপা ডেল রে’র সেমি-ফাইনালে হারটা যে এখনও তাজা বার্সা ফুটবলার এবং অনুরাগীদের মনে। ঘরের মাঠে তিন গোলে জয়ের পরও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। কারণ, প্রথম লেগে মেট্রোপলিতানোয় চার গোলে বশ মেনেছিলেন ইয়ামালরা। তাই ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে এমন অঘটনের পুনরাবৃত্তি চায় না বার্সা। প্রথম লেগে জিতে আতলেতিকোর যাবতীয় আত্মবিশ্বাস দুরমুশ করাই লক্ষ্য ফ্লিক ব্রিগেডের। বার্সা কোচ ফ্লিক অবশ্য আতলেতিকোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আতলেতিকো সবসময় কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা মেলে ধরতে হবে। আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য, দু’টি লেগে ভালো খেলে সেমি-ফাইনালে যাওয়া।’
গত দেড় বছরে লা মাসিয়া থেকে একাধিক তরুণ ফুটবলারকে সুযোগ দিয়েছেন হান্স ফ্লিক। এঁরাই এখন বার্সার সম্পদ। বিশেষত ইয়ামাল, পেড্রি, ফারমিন লোপেজ, কুবার্সির মতো তরুণরা প্রতিপক্ষের রাতের ঘুম কাড়তে পারেন। পাশাপাশি রাফিনহার অনুপস্থিতিতে উইংয়ে ভরসা জুগিয়েছেন র্যাশফোর্ড। তবে মাঝমাঠে ডে জংয়ের না থাকাটা কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখবে বার্সা কোচকে।
দিনের অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে পিএসজি। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে মোটেই ছন্দে নেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি। গত ম্যাচে এফএ কাপে ম্যান সিটির কাছে চার গোল হজম করেন মো সালাহরা। সেই ধাক্কা সামলে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে ভালো কিছু করতে মরিয়া দ্য রেডস। পক্ষান্তরে, ঘরের মাঠে জিতে শেষ চারের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখাই লক্ষ্য লুই এনরিকে ব্রিগেডের।
বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে
বার্সেলোনা : আতলেতিকো মাদ্রিদ (রাত ১২-৩০ মিনিটে)
পিএসজি : লিভারপুল (রাত ১২-৩০ মিনিটে)
সরাসরি সম্প্রচার সোনি স্পোর্টসে।