


আতলেতিকো-১ : বার্সেলোনা-২
(দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয়ী আতলেতিকো)
মাদ্রিদ: ২০১৪-১৫ মরশুমে মেসি-নেইমারদের শেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। তারপর কেটে গেল এক দশকেরও বেশি সময়। বার্সেলোনায় আর ক্লাব ফুটবলের সেরা ট্রফিটা ঢোকেনি। অবশ্য হ্যান্স ফ্লিকের কোচিংয়ে কাতালন ক্লাব যে ফুটবল খেলছে তাতে ঢোকা উচিতও নয়। এবার কোয়ার্টার-ফাইনালের গেরোতেই আটকে গেল বার্সা। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ০-২ ব্যবধানে হারেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মেট্রোপলিটানোতে ফিরতি লেগে ২-১ জিতেও লাভ হল না। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে বাজিমাত আতলেতিকো মাদ্রিদের। ২০১৭ সালের পর ফের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে সিমিওনে-ব্রিগেড।
বার্সা কোচ ফ্লিকের সবচেয়ে বড় সমস্যা তাঁর স্ট্র্যাটেজি। লা লিগায় তিনি যে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলান, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউটে সেটাই বারবার বিপক্ষে যায় বার্সেলোনার। জার্মান কোচের আক্রমণাত্মক হাই-ডিফেন্সিভ লাইন এক ক্যালকুলেটিভ গ্যাম্বেল। যা দলকে আক্রমণাত্মক করে ঠিকই। তবে দ্রুতগতির দলের বিপক্ষে বড় স্পেস রেখে দেয়। দ্বিতীয় লেগে আতলেতিকোর ফরোয়ার্ড আদেমোলা লুকম্যানের গোলটাই তারই প্রমাণ। ২৫ মিনিটের মধ্যেই লামিনে ইয়ামাল ও ফেরান তোরেসের গোলে ২-০ লিড নিয়ে তখন আত্মবিশ্বাসে ফুটছে বার্সা। আর এক গোলের নেশায় পুরো বার্সা তখন অল আউট আক্রমণে। কিন্তু পিছনে গড়ের মাঠ! সেই সুযোগেই ৩১ মিনিটে লোরেন্তের বুদ্ধিদীপ্ত থ্রু ধরে প্রায় বিনা বাধায় গোল লুকম্যানের (২-১)।
অস্বীকার করার উপায় নেই, ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনা উন্নতি করেছে। কিন্তু যেদিন রক্ষণ ভাঙে এবং পরিকল্পনার দরকার পড়ে— সেদিন তাঁর সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মঙ্গলবার এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন ফ্র্যাঙ্কি ডে জংকে প্রথম একাদশে খেলালেন না? এই ডাচ মিডিওর ডিপ লাইন থেকে বল বের করে আনার ক্ষমতা অসাধারণ। তাঁর পরিবর্তে খেলা গাবি অবশ্যই আক্রমণাত্মক। কিন্তু মিডফিল্ড জেনারেল নন। দায় এড়াতে পারবেন না রবার্ট লিওয়ানডস্কি, আরাহুরাও। একাধিক সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি বার্সার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
পক্ষান্তরে, সিমিওনের জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। মঙ্গলবার ম্যাচের শুরুতে ইয়ামালদের অহরহ আক্রমণে একটা সময় নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল কোকেদের। স্কোরলাইন ২-১ হওয়ার পরও আশা জিইয়ে রেখেছিল বার্সা। তবে ৭৭ মিনিটে গ্রিজম্যানের জায়গায় দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার সরলথকে নামিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দেন সিমোনে। তার তিন মিনিট পরই এই তাঁকে রুখতে গিয়ে লাল কার্ড দেখলেন এরিক গার্সিয়া। সেখানেই ম্যাচ কার্যত শেষ।
অপর ম্যাচে অ্যানফিল্ডে ডেম্বেলের জোড়া গোলে লিভারপুলকে ২-০ ব্যবধানে হারাল পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে সেমি-ফাইনালে জায়গা পাকা লুই এনরিকে-ব্রিগেডের।