


বায়ার্ন মিউনিখ- ৪ : রিয়াল মাদ্রিদ- ৩
(দু’লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জয়ী বায়ার্ন)
মিউনিখ: ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই রেফারিকে ঘিরে ধরলেন ভিনিসিয়াস, বেলিংহ্যামরা। দূর থেকে তেড়ে এলেন আর্দা গুলের। নিরাপত্তারক্ষীদের বেষ্টনীতে মাঠ ছাড়ার আগেই লাল কার্ড বার করলেন রেফারি। ম্যাচ শেষেও মার্চিং অর্ডার পেতে হল জোড়া গোলদাতা গুলেরকে। ঘটনাবহুল ম্যাচে হেরে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় রিয়াল মাদ্রিদের। কোয়ার্টার ফাইনালের দু’লেগেই বাজিমাত বায়ার্ন মিউনিখের। বুধবার অ্যালায়েঞ্জ এরিনায় তিনবার পিছিয়ে পড়েও ৪-৩ ব্যবধানে জিতল ভিনসেন্ট কোম্পানির ছেলেরা। দু’লেগ মিলিয়ে জার্মান ক্লাবটির পক্ষে ফল ৬-৪। বিপক্ষের ডেরায় আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষরক্ষায় ব্যর্থ রিয়াল। ৮৬ মিনিটে কামাভেঙ্গা লাল কার্ড দেখতেই ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায় তারা। তারপরই জোড়া গোল হজম। ম্যাচে বায়ার্নের হয়ে জাল কাঁপান আলেকজান্ডার পাবলোভিচ, হ্যারি কেন, লুইস ডিয়াজ ও মাইকেল ওলিসে। রিয়ালের হয়ে জোড়া লক্ষ্যভেদ আর্দা গুলেরের। অপর গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপে।
২৪ ঘণ্টা আগে ইউরোপ সেরার লড়াই থেকে বিদায় ঘটেছিল বার্সেলোনার। রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেয় কাতালন ক্লাবটি। এবার রিয়ালও কাঠগড়ায় তুলল রেফারিকেই। কোচ আলভারো আর্বেলোয়া বলেন, ‘কামাভেঙ্গার লাল কার্ডটাই সব শেষ করে দিল। এমন ম্যাচে এত জঘন্য রেফারিং মেনে নেওয়া যায় না। তবে ছেলেরা দারুণ লড়াই করেছে।’ প্রথম লেগে ১-২ ব্যবধানে হেরে বুধবার মাঠে নেমেছিল রিয়াল। অবশ্য পরিসংখ্যান ছিল তাদের পক্ষে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ চারবারই বায়ার্নকে টেক্কা দেয় ‘লস ব্ল্যাঙ্কোস’। তাই আশায় বুধ বেঁধেছিলেন অনুরাগীরা। মাত্র ৩৮ সেকেন্ডে জাল কাঁপিয়ে তা আরও জোরাল করেন আর্দা গুলের। সেই সুবাদে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে রিয়ালের দ্রুততম গোলের নজির গড়েন তরুণ উইঙ্গারটি (১-০)। অবশ্য পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে ফেরে বায়ার্ন। জোসুয়া কিমিচের ভাসানো সেন্টার থেকে হেডে গোল পাবলোভিচের (১-১)। এরপর ২৯ মিনিট ফ্রি-কিক থেকে জাল কাঁপিয়ে ফের রিয়ালকে এগিয়ে দেন গুলের (২-১)। আর ৩৮ মিনিটে ২-২ করেন হ্যারি কেন। পেণ্ডুলামের মতো দুলতে থাকে ম্যাচে বিরতির প্রাক্কালে স্কোরশিটে নাম তোলেন এমবাপে। ভিনিসিয়াসের পাস ধরে দুই ডিফেন্ডারকে টপকে জাল কাঁপান তিনি (৩-২)। দুই লেগের এগ্রিগেট দাঁড়ায় ৪-৪। বিরতির পর দু’দলই সাবধানী ফুটবল খেলে। এই পর্বে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ভিনিসিয়াস। তবে ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে কামাভেঙ্গার মাঠ ছাড়াই রিয়ালকে বিপদে ফেলে দেয়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৮৯ মিনিটে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান ডিয়াজ (৩-৩)। আর সংযোজিত সময়ে রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন ওলিসে (৪-৩)।
দিনের অপর ম্যাচে স্পোর্টিং লিসবনের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে আর্সেনাল। তবে প্রথম লেগে জয়ের সুবাদে শেষ চারে পৌঁছায় গানাররা।