


নয়াদিল্লি: কেউ যদি জেগে ঘুমনোর ভান করেন, তাহলে তাকে কিছুতেই জাগানো যায় না। পাক স্পিনার আব্রার আহমেদ ইস্যুতে বিসিসিআই কর্তাদের অবস্থা সেরকমই। বৃহস্পতিবার ছিল ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগের নিলাম। সেখানে সানরাইজার্স লিডস ২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকায় দলে নেয় পাকিস্তানের আব্রারকে। সেই খবর সামনে আসার পর শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কারণ, সানরাইজার্স লিডসের কর্ণধার কাব্য মারান। তাঁর দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ খেলে আইপিএলে। ভারতীয় মালিকের কেনা বিদেশি লিগের দলে পাকিস্তানের ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তি, অনেকেই মানতে পারছেন না। সেটাই স্বভাবিক। ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে আইপিএলে পাক ক্রিকেটাররা নিষিদ্ধ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজও বন্ধ। আইসিসি কিংবা এসিসি’র টুর্নামেন্টে দুই দেশ খেলে হাইব্রিড মডেলে। এমনকী, মাঠে ক্রিকেটাররা করমর্দন করেন না। এই আবহে পাকিস্তানের ক্রিকেটারকে সই করিয়ে মুখ পুড়েছে কাব্য মারানদের। নেট দুনিয়ায় অনেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রাতারাতি এক্স হ্যান্ডল ডিলিট করতে বাধ্য হয়েছে সানরাইজার্স লিডস কর্তৃপক্ষ। তাতেও পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়নি। অনেকেই আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে বয়কটের দাবি তুলেছেন।
এমন গুরুতর বিষয়ে বিসিসিআই কর্তারা চুপ। বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা দায়সারা বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটা আইপিএলের বিষয় নয়। বিদেশি লিগ। বোর্ডের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তাই আমাদের কিছু করার নেই। এই ব্যাপারে সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষকেই যা করার করতে হবে।’ কিন্তু বিদেশি লিগের অজুহাত খাড়া করে বিসিসিআই কর্তারা হাত ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন কেন? সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষকে ডেকে সতর্ক করা উচিত যে, এটা দেশবাসীর ভাবাবেগে আঘাত করেছে। তাই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা কর। সবার আগে দেশ, তারপর অন্য কিছু। কিন্তু তা না করে রাজীব শুক্লা শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন। সচিব সাইকিয়া ও সভাপতি মিঠুন মানহাসই বা চুপ কেন?
এরই মধ্যে সানরাইজার্সের হেড কোচ ড্যানিয়েল ভেত্তোরি সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর যুক্তি, ‘আমরা ক্রিকেটীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আব্রারকে দলে নিয়েছি। আদিল রশিদকে টার্গেট ছিল। ওকে না পাওয়ায় আব্রারের জন্য দর হাঁকা হয়। এর বাইরে আর কোনও কারণ নেই। নিলামের আগে ক্রিকেটারদের একটা তালিকা দেওয়া হয়েছিল। তবে পাক ক্রিকেটারদের যে নেওয়া যাবে না, এমন কোনো নির্দেশ ছিল না।’ ভেত্তোরি নিউজিল্যান্ডের মানুষ। তিনি না হয়, ভারত-পাক সম্পর্কের রসায়ন জানেন না। কিন্তু তাঁর মালকিন কাব্য মারান তো ভারতীয়! বেশ কয়েক বছর ধরে আইপিএলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। তারপরও কি তিনি জানতেন না যে, পাকিস্তানের ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া মানে দেশবাসীর আবেগে আঘাত করা? লিগটা যতই বিদেশি হোক, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক তো ভারতীয়!