


সংবাদদাতা, কাটোয়া: তৃণমূলকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির প্রাক্তন নগর সম্পাদকের বিরুদ্ধে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রসেনজিৎ মোদক নামে ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ইস্যুতে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার এক নেত্রীর মন্তব্য সৃষ্টি করল নতুন বিতর্ক। সীমা ভট্টাচার্য নামে ওই নেত্রীর মতে, ‘তৃণমূলকর্মীকে মারধর কোনও অপরাধ নয়।’
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ অক্টোবর অর্থাৎ দ্বিতীয় সপ্তমীর দিন ভোরে। অভিযোগ, অনিন্দ্য ভাস্কর নামে এক তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে অনুগামীদের নিয়ে চড়াও হন প্রসেনজিৎ। অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের সামনেই তৃণমূলকর্মীকে মারধর করা হয়। এমনকি তাঁকে পা ধরে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এমনই একটি ভিডিও (যদিও তা যাচাই করেনি বর্তমান) ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে চুপ থাকলেও গত ২১ অক্টোবর কাটোয়া থানায় প্রসেনজিৎ মোদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত অনিন্দ্য ভাস্কর। যার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। আদালতে যাবার সময় প্রসেনজিৎ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কিছু লোক চক্রান্ত করেছে।’ ভাইরাল ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো বলেও দাবি করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দলের জেলানেত্রী সীমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূলের কর্মীকে মারধরের মধ্যে কোনও অপরাধ দেখছি না।’ যদিও বিজেপির কাটোয়া নগর মণ্ডল সভাপতি সুমন দেবনাথ বলেন, ‘প্রসেনজিৎ আমাদের দলের প্রাক্তন কর্মী। এখন কোনও পদে নেই। ও মোটেই সঠিক কাজ করেনি।’
অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হোক চাই না। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা সঠিক বিচার চাই।’