


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে দেশের অধিকাংশ রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। পিছিয়ে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি বড় এবং ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য। খাদ্যমন্ত্রকের রিপোর্টে বাংলার এগিয়ে থাকার বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে পরিসংখ্যানসহ। কিছুদিন আগে রাজ্যগুলির খাদ্যসচিবদের বিশেষ সম্মেলনের আগে রিপোর্টটি প্রকাশ করে কেন্দ্র। রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্র একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি ও আধারের বায়োমেট্রিক যাচাই করতে হবে। সংযুক্ত করতে হবে রেশন দোকানের ই-পস যন্ত্রের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ওজনযন্ত্র। খাদ্য বরাদ্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয় এসব মেনেই। ই-কেওয়াইসি ৫ বছর অন্তর করার ব্যাপারে কেন্দ্র-রাজ্য একমত হয়েছে। কেন্দ্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ শতাংশ রেশন গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অথচ এটা হয়েছে বিজেপি শাসিত ইউপিতে ৭৩.২, গুজরাতে ৭২.৯ এবং হরিয়ানায় ৪৬.৩ শতাংশ। মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি আরও খারাপ—মাত্র ৩৪ শতাংশ। সারা দেশের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকা মিলিয়ে ৩৬টির মধ্যে ১৫টিতে ৮০ শতাংশের বেশি এটি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের থেকে কিছুটা এগিয়ে আছে হিমাচলপ্রদেশ, কর্ণাটক ও আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে পরিবারের একজন সদস্যের আধার বায়োমেট্রিক যাচাইসহ রেশনের খাদ্য দিতে বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই ৯৯ শতাংশের বেশি গ্রাহক খাদ্য পান। বিজেপিশাসিত অরুণাচলে এটা ১০ শতাংশ মাত্র। মণিপুরে রেশন বণ্টনে আধার যাচাই হয়ই না। বিজেপিশাসিত উত্তরাখণ্ডে এটা হয়েছে মাত্র ৬৭ শতাংশ।
রেশন গ্রাহকরা যাতে সঠিক ওজনের খাদ্যসামগ্রী পান তার জন্য ই-পস মেশিনের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ওজনযন্ত্র যুক্ত করতে বলা হয়েছে। যথাযথ ওজনের খাদ্য দেওয়া হলেই স্লিপ বেরয় এবং তা খাদ্যদপ্তরের পোর্টালে নথিভুক্ত হয়। পশ্চিমবঙ্গসহ মাত্র সাতটি রাজ্য এটা করেছে বলে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে। গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা প্রভৃতি বিজেপিশাসিত রাজ্যে এই ব্যবস্থা চালুই হয়নি!