


সংবাদদাতা, কালনা: এশিয়া মহাদেশের প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসেবে ষষ্ঠ সিন্ধু জয় করলেন ‘বাংলার জলকন্যা’ কালনার সায়নী দাস। শুক্রবার রাতে স্পেন থেকে মরোক্কো জিব্রাল্টার প্রণালী জয় করে ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন। এই জয়ের খবর আসতেই কালনা সহ জেলাজুড়ে খুশির হাওয়া। শনিবার সকালে ফোনে সায়নী ও তাঁর পরিবারকে শুভেচ্ছা জানান রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।
স্পেন থেকে মরোক্কোর মধ্যে থাকা জিব্রাল্টার প্রণালী জয়ের লক্ষ্যে শুক্রবার ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ জলে নামেন সায়নী। ঠান্ডা জল, হাঙর সহ নানা ভয়ঙ্কর জলজ প্রাণির ভয় ছিলই। সব প্রতিকূলতা হেলায় জয় করে তিন ঘণ্টা ৫১ মিনিট সময় নিয়ে তিনি এই প্রণালী জয় করেন। তুলে ধরেন দেশের জাতীয় পতাকা। এশিয়ার মধ্যে প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসাবে সপ্তসিন্ধুর মধ্যে ষষ্ঠ সিন্ধু জয় করে ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন।
কালনা শহরের বারুইপাড়ার বাসিন্দা সায়নীর ছোট থেকেই সাঁতারে আগ্রহ দেখে পাড়ার পুকুর ও সুইমিংপুলে সাঁতারে প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন বাবা রাধেশ্যাম দাস। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক। মা রুপালি দাসও মেয়েকে উৎসাহ দিতে থাকেন। অল্প বয়সে স্কুল প্রতিযোগিতা থেকে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সাফল্য আসে। পাড়ার পুকুর, কখনও গঙ্গায় ও সুইমিংপুলে রাত-দিন কঠোর পরিশ্রম করে ২০১৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল জয় করেন। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সাফল্য পান। ২০১৮ অস্ট্রেলিয়ার রটনেস্ট চ্যানেল জয় করেন। ২০১৯ সালে আমেরিকার ক্যাটালিনা, ২০২২ সালে এশিয়ার প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসেবে আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মলোকাই চ্যানেল জয় করে দেশের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন আমেরিকার মাটিতে। গতবছর মার্চ মাসে বিপদসঙ্কুল নিউজিল্যান্ডের কুক স্ট্রেইট প্রণালী জয় করেন। একই বছরে সেপ্টেম্বর মাসে নর্থ চ্যানেল জয় করেন।
মেয়ের একের পর সাফল্য এলেও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ও প্রশিক্ষণে বিপুল টাকা খরচ হয়। বাবা রাধেশ্যাম দাসকে বাড়িও বন্ধক রেখে ঋণ নিতে হয়েছে। সায়নীর একের পর সাফল্যে রাজ্য সরকার খেলশ্রী সম্মান দিলেও জাতীয় সম্মান অধরা ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সেই স্বপ্নও পূরণ হয় সায়নীর। তেনজিং নোরগে ন্যাশানাল অ্যাডভেঞ্চার অ্যাওয়ার্ড পান সায়নী। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর হাতে সম্মান তুলে দেন রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মু।
সায়নীর বাবা রাধেশ্যামবাবু বলেন, স্পেন থেকে মরোক্কো পর্যন্ত জিব্রাল্টার প্রণালী দিয়ে সবসময় জাহাজ চলাচল করে। ফলে নদীর উত্তাল ঢেউ ও জাহাজ চলাচল করায় সাঁতারুদের খুবই সমস্যা হয়। এছাড়াও জলে রয়েছে হিংস্র হাঙর সহ নানা জলজ প্রাণী। সায়নীর সাফল্যে খুব ভালো লাগছে। ওকে যাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সকলের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। কালনার বাসিন্দা সুশীল মিশ্র বলেন, কঠোর অনুশীলনই সায়নীর সাফল্যের চাবিকাঠি। সপ্তসিন্ধু জয়ের দোরগোড়ায় থাকা সায়নী আগামী দিনেও সফল হবে। ওর জন্য আমরা গর্বিত। মন্ত্রী স্বপনবাবু বলেন, সকালে সায়নীর জয়ের খবরটা পেয়েই ফোনে ওকে ও ওর পরিবারকে অভিনন্দন জানাই। ওর সাফল্যে আমরা গর্বিত। বাড়ি ফিরলেই অভিনন্দন জানিয়ে আসব।