


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট ও মুরারই কেন্দ্রে কে জিতবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে বেটিং। লাখপতি হতে অনেকেই প্রার্থীদের হয়ে টাকা লাগাতে শুরু করেছেন। ভোট পরবর্তী সময় যত এগচ্ছে ততই দেদার বাজি ধরা হচ্ছে।
চায়ের দোকান থেকে পাড়ার ঠেক, বাসে ট্রেনে সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই, কে জিতবে? আর এই চর্চাকে পুঁজি করে জুয়া শুরু হয়েছে। কারবারিরা প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনাকে নিজেদের মতো করে বিশ্লেষণ করছেন। এই বেটিং চক্রে প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে টাকার অঙ্ক বা রিটার্ন নির্ধারিত হচ্ছে। রামপুরহাটের তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চারগুণ রিটার্ন দেওয়ার বাজি ধরা হচ্ছে। তাঁর সর্বনিম্ন বাজির দর ১০হাজার টাকা। সর্বাধিক এক লক্ষ টাকা। এখানে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার দর আবার কিছুটা কম। যা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবার কেউ কেউ এই কেন্দ্রের আইএসএফ জোটের সিপিএম প্রার্থী সঞ্জীব মল্লিক দ্বিতীয় না তৃতীয় পজিশনে থাকবে তা নিয়ে বাজি ধরছে। তবে তাতে ঝুঁকি নিয়ে টাকা লাগানোর লোক কম।
অনেকেই বলছেন, আগে সাধারণত আড্ডার ছলে ‘জিতলে মিষ্টি বা মাংস খাওয়ানোর বাজি ধরা হত। যার মধ্যে একটা সামাজিকতা ছিল। কিন্তু এখন সেই সাধারণ বাজি ফটকা আয়ের ব্যবসায়িক রূপ নিয়েছে, যা বেশ উদ্বেগের। নাম প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তে এক কারবারি বলেন, ভোটের পর থেকেই রামপুরহাট ও মুরারইয়ে কে জয়লাভ করবে তা নিয়ে সর্বত্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তাই ভাবলাম যদি প্রার্থীদের হয়ে বেটিং করা যায় তাহলে কিছুটা ফটকা আয়ের সম্ভাবনা থাকে। তিনি বলেন, রামপুরহাট কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী আশিসবাবুর হয়ে অনেক বেশি লোক বাজিতে টাকা লাগাচ্ছে। তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে কেউ ১০ হাজার টাকা লাগালে তিনি জিতলে ৪০হাজার টাকা পাবেন। অর্থাৎ চারগুণ বেশি। আর বিজেপি প্রার্থী জিতলে ওই ব্যক্তির ১০হাজার টাকা আমার পকেটে ঢুকবে।
মুরারই কেন্দ্রেও সর্বনিম্ন বাজির দর ২০ হাজার টাকা। ওই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী চিকিৎসক মোশারফ হোসেনের হয়ে অনেকে বাজিতে টাকা লাগাচ্ছেন। অর্থাৎ মোশারফ সাহেব জিতলে ২০তে মিলছে ৪০হাজার। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী সঞ্জীবুর রহমানের হয়েও বাজি ধরার সংখ্যাও কম নয়। তবে এই কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী হয়ে বাজি ধরার লোকের সংখ্যা শূন্য। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা এই বাজির বাজারকে আরও উসকে দিয়েছে।
তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, রামপুরহাট ও মুরারই দু’টি কেন্দ্রেই জয়লাভ করব আমরা। যারা আমাদের প্রার্থীদের হয়ে টাকা লাগিয়েছেন আগামী ৪মে তাঁদের লক্ষ্মীলাভ হবে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, গত কয়েক বছরে তৃণমূলের অরাজকতার ফল ইভিএমে দেখা যাবে। তাই তৃণমূলের লক্ষ্মীলাভের স্বপ্ন বাস্তবের মুখ দেখবে না।
সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব বর্মন বলেন, খেলার জগৎ থেকে আসা এই বেটিং এখন সব কিছুতেই শুরু হয়েছে। এর প্রতি আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই। আসলে এটা জুয়া খেলার শামিল। তবে রামপুরহাট ও মুরারইয়ে খালি হাতে ফিরতে হবে তৃণমূলকে।