


ইস্ট বেঙ্গল- ৩ : ওড়িশা এফসি- ০
(বিপিন, ইউসেফ-২)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে টগবগিয়ে ফুটছে বাংলা। টেনশনের তিরতিরে স্রোত পাড়ায় পাড়ায়। এরইমধ্যে মধ্যে লাল-হলুদ সমর্থকদের নজর ছিল গোয়ায়। মঙ্গলবার ওড়িশা এফসি’কে ৩-০ গোলে বশ মানিয়ে আইএসএলের চতুর্থ স্থানে উঠে এল অস্কার ব্রিগেড। ৯ ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলের পয়েন্ট ১৮। এদিন গোল পার্থক্যও বাড়িয়ে রাখলেন সাউলরা (১৭)। চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়েও দারুণভাবে লড়াইতে রয়েছে মশালবাহিনী।
আনোয়ার পুরো ফিট নন। তাই অস্কার তাঁকে প্রথম দলে রাখেননি। বদলে রাকিপ, কেভিন ও জিকসনকে রক্ষণে খেলালেন স্প্যানিশ কোচ। ৩-৫-২ ফর্মেশনে প্রথম মিনিট কুড়ি ওড়িশাকে ঝাঁঝরা করে দিল ইস্ট বেঙ্গল। ১১ মিনিটে চমৎকার টার্ন করে বিপক্ষ বক্সে ঢুকে নিখুঁত মাইনাস করেন বিষ্ণু। সাজানো বল থেকে জাল কাঁপাতে অসুবিধা হয়নি বিপিন সিংয়ের (১-০)। আইএসএলে নিজের ১৫০তম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন লাল-হলুদের ‘বিপিনবাবু’। চলতি মরশুমে ধারাবাহিকতায় অন্যতম সেরা তিনি। এরপরেই অরক্ষিত নন্দকুমারের হেড বাইরে যায়। সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে বল বাইরে মারলেন বিষ্ণুও। কিন্তু তাল কাটল এরপরেই। বিশেষ করে নন্দকুমার ও সোয়বার্গ একেবারেই নিষ্প্রভ। স্রেফ হেঁটে বেড়ালেন মাঠে। ইস্ট বেঙ্গল মাঝমাঠে বল হোল্ড করার দক্ষতা রয়েছে সাউলের। কিন্তু সাপোর্টের অভাবে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনিও। প্লে-মেকার মিগুয়েলের অনুপস্থিতি বোঝা গেল বারবার।
এক গোলের মার্জিন নিরাপদ নয়। বিরতির পর টিম হার্ডলে হয়তো সেটাই বোঝাতে চাইলেন সাউল ক্রেসপো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এডমুন্ড-বিষ্ণু কম্বিনেশনে গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। কিন্তু ফাইনাল টাচ বড়ো হওয়ায় জাল কাঁপাতে পারেননি এডমুন্ড। অন্যদিকে, ৬১ মিনিটে জয় গুপ্তাকে কাটিয়ে দুরন্ত শট নিয়েছিলেন রহিম আলি। তেকাঠিতে থাকলে বিপদ ঘটতেই পারতো। বিপদ বুঝে এবার সোয়বার্গ ও এডমুন্ডের বদলে যথাক্রমে এজেজ্জারি ও জেরিকে মাঠে নামান অস্কার। যাই হোক, ৭০ মিনিটে বহু প্রতীক্ষিত গোল পেলেন সেই ইউসেফ। এক্ষেত্রেও বাঁ দিক ধরে তরতরিয়ে উঠে গড়ানো মাইনাস রাখেন বিষ্ণু। ওড়িশা গোলরক্ষক সাময়িক প্রতিহত করার পর ফিরতি বলে জাল কাঁপান ইউসেফ (২-০)। মহমেডান ম্যাচের পর ফের গোলের দেখা পেলেন তিনি। এরপর ৮৩ মিনিটে বিপিনের মাপা ক্রস ট্যাপ করে ওড়িশার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিলেন সেই ইউসেফই (৩-০)। একইসঙ্গে ৯ গোল করে চলতি আসরে সর্বাধিক গোলদাতার দৌড়ে জেমি ম্যাকলারেনকে (৮ গোল) টপকে গেলেন লাল-হলুদ স্ট্রাইকার।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ, জিকসন, কেভিন, বিষ্ণু (ডেভিড), শৌভিক (জয়), সাউল, বিপিন, নন্দ (রশিদ), এডমুন্ড (জেরি) ও অ্যান্টন (ইউসেফ)।