


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন স্থানীয় এক বিজেপি নেতা। কিন্তু তাঁকে দীর্ঘক্ষণ থানাতেই বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে কলকাতার মেটিয়াবুরুজ ও গার্ডেনরিচ থানার দুই ওসিকে বদলি করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দা এই বদলি করেছেন। তবে এবারও থানার ওসিদের এই বদলি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দিয়েছে কলকাতা পুলিশে। অভিযোগ, ওসি বদলির নামে লালবাজারের শীর্ষকর্তারা কার্যত স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছেন। উদাহরণ হিসাবে ক্ষুব্ধ পুলিশ অফিসাররা বলছেন, মেটিয়াবুরুজ থানার নতুন ওসি পদে নিয়োগ করা হয়েছে ২০০৮ ব্যাচের অফিসার সায়ন বিশ্বাসকে। কিন্তু এখানেই বৈষম্যের অভিযোগ তুলছে বাহিনীর একাংশ। কারণ, অন্তত দুই থেকে তিনটি থানায় অ্যাডিশনাল ওসি হিসাবে কাজ করার পর একজন ইনস্পেক্টরকে কোনো থানার ওসি করা হয়। সেখানে সায়ন বিশ্বাসের কোনও থানাতেই অ্যাডিশনাল ওসি হিসাবে কাজের অভিজ্ঞতা নেই! দীর্ঘদিনের এই প্রথা ভাঙার ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাহিনীতে প্রশ্ন উঠছে, কেন এই বৈষম্য?
অন্যদিকে, বাহিনীতে অভিযোগ উঠছে, ভবানীপুর থানার ওসির পদ নিয়ে যেন মিউজিক্যাল চেয়ার চলছে লালবাজারে! ভোটের সময় নির্বাচন কমিশন ভবানীপুর থানার ওসিকে সরিয়ে সৌমিত্র বসুকে নিয়োগ করেছিল। ভোট মিটতেই সিপি তাঁকে সরিয়ে রাজীব চট্টোপাধ্যায়কে নতুন ওসি হিসাবে নিয়োগ করেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে এবার রাজীব চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে ফের অস্থায়ী ওসির দায়িত্বে আনা হয়েছে সেই সৌমিত্র বসুকে! বাহিনীর অভিযোগ, এত ঘনঘন বদলির ফলে থানাতে থিতু হতে পারছেন না ওসিরা। কার্যত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন তাঁরা।