


সংবাদদাতা,বহরমপুর: গঙ্গার উচ্চ অববাহিকা থেকে ভেসে আসা কচুরিপানার জঙ্গল খেয়া পারাপারের মাঝিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বহরমপুরের খেয়া ঘাটগুলির ইজারদারদের উদ্বেগ বাড়ছে। তঁদের দাবি, ঝাঁকে ঝাঁকে বয়ে আসা কচুরিপানা নৌকার ফ্যানে জড়িয়ে পড়ছে। সর্তকতা অবলম্বন করেও কচুরিপানার জঙ্গল এড়ানো যাচ্ছে না। খেয়া ঘাটের মাঝিদের দাবি, নদীতে প্রতিটি পারাপারে অন্ততপক্ষে দু থেকে তিনবার গঙ্গার উপর আটকে যাচ্ছে নৌকা। মাঝ গঙ্গায় নৌকা আটকে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মাঝিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নেমে ডুব সাঁতার কেটে নৌকার পাখায় জড়ানো কচুরিপানা ছাড়াতে হচ্ছে। এই সমস্যা কতদিন চলবে কেউ জানেন না।
বেশ কয়েকদিন ধরে গঙ্গায় কাতারে, কাতারে কচুরিপানার ঝাড় ভেসে আসছে। ফরাক্কা ব্যারেজের আপ স্ট্রিমে জমে থাকা কচুরিপানার জঙ্গল কোনো একটি নির্দিষ্ট গেট দিয়ে ডাউন স্ট্রিমে পড়ছে। সেগুলি ভাসতে ভাসতে সাগরের মোহনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে মোহনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে কচুরিপানার জঙ্গল কার্যত খেয়া পারাপারে প্রবল ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ কচুরিপানার আয়তন প্রায় ৩০-৪০ বর্গ ফুটের কাছাকাছি। খেয়া পারাপারের সময় এই কচুরিপানা রোটার ফ্যানে আটকে নৌকার গতি থমকে দিচ্ছে। বহরমপুর কলেজ ঘাটের খেয়া পারাপারের মাঝি মঙ্গল চৌধুরী বলেন, প্রতিটি পারাপারে অন্তত পক্ষে তিনবার গঙ্গায় নামতে হচ্ছে। নদীতে ডুবে বহু কষ্টে কচুরিপানার ঝাড় ছাড়াতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেজা জামা কাপড়ে থাকতে হচ্ছে আমাদের। অনেক সময় আতঙ্কিত যাত্রীদের পরিস্থিতি বোঝাতে হচ্ছে। বাজারপাড়া এলাকা থেকে রাধারঘাটে খেয়া পারাপার করে আট বছরের মেয়েকে নিয়ে বহরমপুর আসছিলেন জ্যোৎস্না মণ্ডল।
বহরমপুরে নেমে তিনি বলেন, দমবন্ধ হওয়া আতঙ্ক নিয়ে আসতে হল। মেয়েকে নিয়ে আসছিলাম। মাঝ গঙ্গায় দু’বার নৌকা আটকে পড়ে। প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলাম। আর ঝুঁকি নেব না। ফেরার সময় টোটোতেই যাব। খাগড়ার খেয়া ঘাটের মাঝি জগন্নাথ হালদার বলেন, হাল ধরে সর্তকভাবে যেতে হচ্ছে। তাতেও সমস্যা এড়ানো যাচ্ছে না। প্রতিকার ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের হাতে। ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে নির্দিষ্ট যে গেটগুলি দিয়ে কচুরিপানা ডাউন স্ট্রিমে ঢুকছে সেগুলি বন্ধ করে অন্য গেট খুলে দিক।