


ত্রৈলক্যতারিণী কে?
ত্রৈলক্যতারিণী এমন মানুষ, যার মাথার মধ্যে ঢুকতে পারলে আমরা অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারব। সেই প্রচেষ্টাতেই আমি ছিলাম। ত্রৈলক্য কম বয়সে বিধবা হয়। পতিতাপল্লীতে তাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বেঁচে থাকার লড়াই শুরু হয় তার। সে নিজের পেশায় শ্রেষ্ঠ হতে চেয়েছিল। ত্রৈলক্যর সময় বিনোদিনীও ছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র ‘দেবী চৌধুরানী’ও লিখছেন। ফলে ঐতিহাসিক ভাবে উল্লেখযোগ্য একটা সময়ে সে এই বাংলায় বাস করত। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে মাইন্ড গেম খেলত। সে কি সত্যিই সিরিয়াল কিলার হতে চেয়েছিল? ওকে জীবন যেখানে ঠেলে দিয়েছিল, সেটা তো প্রতিটা মেয়ের জীবনে হয় না। ওই সময় পুরুষতন্ত্র তুঙ্গে ছিল। ব্রিটিশ রাজ ছিল। সবাইকে লেজে খেলিয়ে সে সবটা কীভাবে কন্ট্রোল করত? এগুলো আমাকে ভাবিয়েছিল।
রহস্যে ঘেরা চরিত্র?
ওর মধ্যে তো রহস্য থাকবেই। ওর পেশাই তেমন ছিল। নিজের সময়ে ‘রানি’ ছিল। ত্রৈলক্য ব্যক্তিগত জীবনে যা যা ঘটাচ্ছে, সেগুলো অনেক পরে জানতে পারা যায়। তাও আবার ও নিজেই শেয়ার করেছিল তাই। ফলে নিজেকে ঘিরে রহস্যটা ও বজায় রেখেছিল। ত্রৈলক্যকে নিয়ে আমি বহুদিন ধরেই কাজ করতে চেয়েছিলাম। বহুবার এই চরিত্র নিয়ে কাজের পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু কাজটা হয়নি। মধুরা পালিতের এটা প্রথম পরিচালনা। প্রথমবার ত্রৈলক্যকে নিয়ে কাজ একটা ডকুমেনটেশনও হয়ে থাকল।
আপনার সঙ্গে একসময় প্রায় বিশেষণ হিসেবে ‘বোল্ড’ শব্দটা ব্যবহার হতো। এই চরিত্র তো আক্ষরিক অর্থে ‘বোল্ড’?
(হাসি) ‘বোল্ড’— একটা টার্মিনোলজি। নিজেদের সুবিধের জন্য এগুলো আমরা নিয়ে এসেছি। আমি শিল্পী হিসেবে বলব, ‘বোল্ড’ শুধু পোশাকে হয় না। ভাবনাচিন্তায় হয়। ত্রৈলক্য যে ঘটনাগুলো ঘটিয়েছিল, তার থেকে বোল্ড স্টেপ তো কিছু হতে পারে না। যারা মূলস্রোতের থেকে একটু আলাদা, তাদেরই কি আমরা বোল্ড তকমা দিচ্ছি?
‘গণশত্রু’ শব্দটা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
জনগণের যে শত্রু। সেই শত্রুতা যে কোনও ভাবে হতে পারে। বন্যপ্রাণ ধ্বংস, ম্যানিপুলেশন, দুর্নীতি— সবকিছুই হতে পারে। বিষয়টা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। মানবজাতির সঙ্গে যারা দ্বিচারিতা করছে, (কখনও সেটা আমরা নিজেরাই) তার থেকে বড় শত্রু তো আর হতে পারে না।
সাম্প্রতিক কোন ছবি ভালো লাগল?
আমি একটা সিরিজ দেখছিলাম, ‘ব্যাডস অব বলিউড’। পুরোটা শেষ হয়নি। লেখাটা ভালো লেগেছে। সেন্স অব হিউমার ভালো। নিজেকে নিয়ে মজা করা তো সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।
এই ধরনের কাজ টলিউডে হলে করবেন?
কেন করব না?
এই বছর তো আপনার আর একটা ছবিও রিলিজ করবে?
হ্যাঁ, সম্ভবত ‘লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল’ এই বছরেই রিলিজ। গল্পটা চমৎকার। লোকাল ট্রেনে চড়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কাজ করতে শহরে আসেন। কেউ ঠিকে কাজ করেন। কেউ আয়ার কাজ। তেমনই একটা চরিত্র। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর পরিবারে আমার চরিত্র কাজ করতে যায়। কৌশিকদার সঙ্গে প্রথম কাজ। আর ঋতুদির সঙ্গে ‘পারাপার’-এর পর কাজ করলাম।
শোনা যায়, টলিউডে কোনও না কোনও গোষ্ঠীতে না থাকলে নাকি কাজ পাওয়া মুশকিল?
আমার তো চলল এতদিন। ২০ বছরেরও বেশি। দেখুন, শিল্পীদের জার্নি স্মুথ হতে পারে না। আমি ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছি বরাবর। নতুন পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছি। আরও করতে চাই। আমি মনে করি, একজন যখন ভালো কাজ করেন, ভালো কাজও তাঁকে খোঁজে।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য