


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সমবায় ভোটের আগে শনিবার রাতভর বোমাবাজিতে খেজুরিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। সিসি ক্যামেরা বন্দি বোমা বিস্ফোরণের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। রবিবার খেজুরি-২ ব্লকের জনকা পঞ্চায়েতের গোড়াহার সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ভোট ছিল। কটকা দেবীচক শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে সেই নির্বাচন হয়। গত চার-পাঁচ বছর ধরে ওই এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে সন্ত্রস্ত। বিগত পাঁচ বছরে ওই এলাকায় ভোটে পোলিং এজেন্ট বসাতে পারেনি তৃণমূল। এরকম একটি জায়গায় ভোটের আগেরদিন কারা ধারাবাহিকভাবে বোমা বিস্ফোরণ করল তা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। রাত ২টোর পর গোড়াহার গ্রামে পরপর বোমাবাজি হয়। বিকট আওয়াজে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় মানুষজন ভয়ে সিঁটিয়ে যান। পরপর বোমা বিস্ফোরণে ভোর পর্যন্ত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি গোরাহারের মানুষজন। রবিবার সকালেও বোমা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। এদিন সেসব উদ্ধার করে পুলিস। ন’টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ও বিজেপি দু’দলই প্রার্থী দিয়েছিল। তৃণমূল একদিন প্রচারে বেরিয়েছিল। কিন্তু, প্রচারে সাড়া না পেয়ে দ্বিতীয়বার বেরয়নি। ভোটের ফলাফল কী হবে সেটা শাসকদলের নেতারাও আগেভাগে বুঝতে পেরেছিলেন।
গোড়াহার থেকে সমবায়ে প্রার্থী হওয়া তৃণমূলের নটেন নায়েক মাত্র ১৩টি ও বকুল কাণ্ডার মাত্র ১১টি ভোট পান। অথচ, তাঁদের বিপরীতে বিজেপির দুই প্রার্থী কনিপ্রসাদ মণ্ডল ও অমৃত পাত্র যথাক্রমে ১০৮ ও ১০৫টি ভোট পেয়েছেন। চারদিন আগে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল প্রার্থীরা একদিন প্রচারে বেরিয়েছিলেন। বাসিন্দাদের চোখেমুখে আতঙ্ক দেখে তাঁরা আর দ্বিতীয়বার প্রচারে বের হননি। বিজেপির নিয়ন্ত্রণে থাকা এরকম একটি সন্ত্রস্ত জায়গায় কারা ধারাবাহিকভাবে বোমা ফেলল, তা নিয়ে ধন্দে পুলিশও। ভোটে উত্তেজনা ছড়াতেই বোমা ফাটানো হয়েছে। কিন্তু, এই ঘটনার দায় তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলের নেতারা পরস্পরের দিকে তুলেছেন। গোরাহার, মুরলিচক, গোড়াহার জালপাই, শ্যামপুর, শ্যামপুর কটকা, দেবীচক প্রভৃতি আটটি গ্রাম ওই সমবায় সমিতির এলাকা। মোট ৯৬১জন ভোটার। এদিন ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই দেখা যায়, ন’টি আসনেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। অধিকাংশ জায়গায় বিজেপি প্রার্থীদের তুলনায় তৃণমূল প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট অনেক কম। তৃণমূল কংগ্রেসের খেজুরি-২ ব্লক সভাপতি সমুদ্ভব দাস বলেন, ২০২১সালে বিধানসভা ভোটের সময় থেকেই জনকা পঞ্চায়েতের ওই এলাকাটি বিজেপি গায়ের জোরে দখল করে রেখেছে। সেখানে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতেও নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়। এজন্য পুলিশকে সঙ্গে রাখতে হয়। গত চার-পাঁচ বছরে বহুবার সংঘর্ষ হয়েছে। এরপর খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দলবদল এবং পুনরায় দলে ফেরা নিয়ে বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল তুঙ্গে উঠেছে। শনিবার রাতে বিজেপির লোকজনই বোমা ফেলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে। ওরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবে বলে ধরে নিয়েছিল। কিন্তু, আমরা সব আসনে প্রার্থী দেওয়ায় ওদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। ভোটে আমরা যাতে ধারেকাছে ঘেঁষতে না পারি সেজন্য আগের রাতে দেদার বোমা ফাটিয়েছে। বিজেপি নেতা তথা খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ পবিত্র দাস বলেন, আমাদের প্রার্থী অমৃত পাত্রের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মারা হয়েছে। এটা তৃণমূলের কাজ। ভোটে সমবায়ীরা ওদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।