


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পাকিস্তানে বন্দিদশার পর্বটা ভুলে যেতে যান হুগলির রিষড়ার বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম সাউ। প্রায় ২৩ দিনের বন্দিদশা নিয়ে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি। শুক্রবার বাড়ি ফিরে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। শনিবারও সেই বিষয়ে লাগাতার প্রশ্নের মুখে নীরবই রইলেন। যদিও তার মাঝে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাঁর বক্তব্য, ‘ওই পর্বটা ভুলে যেতে চাই।’ এই একটি উক্তিই না বলা অনেক কথা বলে দিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, শত্রু রাষ্ট্রে গুপ্তচর হিসেবে বন্দি থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর বিপর্যস্ত ছিলেন ওই বিএসএফ কনস্টেবল। প্রাথমিক পরীক্ষাপর্ব ও জিজ্ঞাসাবাদপর্ব শেষে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য ছুটিতে বাড়ি পাঠানো হয়। সে কাজে বাড়তি সংযোজন, রিষড়ার মানুষের উচ্ছ্বাস। শুক্রবারের নাগরিক উন্মাদনার পর শনিবার পূর্ণমকে বেশ চনমনে দেখিয়েছে। তিনি নিজেও বারবারই দাবি করেছেন, বাড়ি ফিরে বেশ ভালো লাগছে। শনিবার পূর্ণম বলেন, ‘পাকিস্তানের হাতে বন্দি থাকার সময় প্রথম দু’দিন ভেবেছিলাম ওরা আমাকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর ওই বিষয়ে আর ভাবিনি। আমাদের ওইভাবেই ট্রেনিং দেওয়া হয়। দেশের জন্য কর্তব্য পালনের সময় পরিবারের ভাবনা আলাদা করে মাথায় আসে না। আমার পরিবারও জানে, দেশরক্ষার কাজে যখন তখন যা কিছু ঘটতে পারে। তবে এটুকু বলতে পারি, পাকিস্তান পর্ব আমি ভুলতে চাই।’ পাশাপাশি তাঁর দাবি, অপারেশন সিঁদুর, দু’দেশের টানাপোড়েন-এসব কিছুই জানতে পারেননি। এমনকি দেশে ফেরারও দু’দিন পর পর্যন্ত তাঁর কাছে কোনও তথ্য ছিল না। অন্যদিকে শুক্রবারের পর শনিবারও পূর্ণমের বাড়িতে লেগে ছিল ভিড়। একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা এসেছিলেন। ভিড় করেছিলেন আত্মীয় থেকে সাধারণ মানুষও। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বহুদিন পর পরিবারের সকলে একসঙ্গে খেতে বসেছিলেন। অনেক গল্পগুজবের পর ভোররাতে সকলে ঘুমোতে যান। স্বামীর বন্দিদশার সময় একাধিক ব্রত পালনের কথা ভেবেছিলেন পূর্ণমের স্ত্রী রজনীদেবী। শনিবার সেই ব্রত উদযাপনের পাশাপাশি ভিড় সামাল দিতে হয়েছে তাঁকে। রাতে এসেছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায়। কল্যাণবাবু বলেন, ‘পূর্ণমের মুক্তির জন্য আমি, আমাদের নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে সেটাই সবচেয়ে আনন্দের। আমরা কর্তব্য করেছি কৃতিত্ব দাবি করতে আসিনি।’