


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দুধে দেদার মিশছে জল, ওজন কমেছে মাছের। সরকারি হাসপাতালের রোগীদের পুষ্টি যেখানে সবচেয়ে জরুরি, সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি সহ জেলার হাসপাতালগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে সেটাই প্রশ্নের মুখে। অবশেষে দীর্ঘ ন’বছর পর রোগীদের দৈনিক খাবারের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে রাজ্য বাজেটে। ২০১৭সাল থেকে সরকারি হাসপাতালে তিনবেলার খাবারের জন্য রোগীপিছু প্রতিদিন বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সা। ফলে খাবারের গুণমান নিয়ে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে এই বরাদ্দ বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার ঘোষণা হয়েছে। তা এখনও কার্যকর হয়নি। দ্রুত নতুন বরাদ্দ চালুর দাবি তুলেছেন রোগী ও রোগীর পরিজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন যে ৫৬টাকা বরাদ্দ ছিল, তাতে সকালে মিলত ১০০গ্রাম দুধ, কলা, পাউরুটি ও ডিম। কিন্তু অভিযোগ, সেই দুধ জলের মতোই পাতলা। দুপুরে মোটা চালের ভাত, জলের মতো ডাল, সবজি আর পাতলা মাছের ঝোল দেওয়া হয়। মাছের টুকরো এত ছোট যে এক গ্রাসেই শেষ হয়ে যায়। সবজিতে অধিকাংশ দিনই থাকে শুধু কুমড়ো। সপ্তাহে দু’দিন মাংস দেওয়া হলেও ঝোলের মধ্যে টুকরো খুঁজে পাওয়া দায়। রাতেও কার্যত একই খাবার দেওয়া হয় রোগীদের। হাসপাতালের রোগীর পরিজনরা জানান, এমন খাবর দেওয়া হয় রোগীরা মুখেই তুলতে পারেন না। তাই বাড়ি থেকে তাঁরা খাবার এনে রোগীদের খাওয়ান। এই অব্যবস্থার কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সরবরাহকারীরাও। জেলা সদর হাসপাতালের রান্নার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার এক কর্তা জানান, বাজারে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়ছে। অথচ এতদিন খাবারের জন্য বরাদ্দ এক পয়সাও বাড়েনি। এত কম টাকায় কীভাবে মানসম্পন্ন খাবার চালানো সম্ভব?
সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার প্রকাশচন্দ্র বাগ বলেন, হাসপাতালে খাবারের বরাদ্দ কম থাকার কারণে এতদিন মান ঠিক রাখা যাচ্ছিল না। তবে এবার যেহেতু বরাদ্দ বেড়েছে, আশা করছি রোগীদের সঠিক পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব হবে।
গত সপ্তাহে রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রোগীদের এই দৈনিক বরাদ্দ ৫৬টাকা ৬৪পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১০টাকা করার কথা ঘোষণা করেন। সরকারি হাসপাতালে মূলত দরিদ্র পরিবারের মানুষজনই চিকিৎসার জন্য আসেন। তাই তাঁদের ভাল খাবারের ব্যবস্থা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেইসময় তিনি শুনিয়েছিলেন, ‘কী করবে ঠিকাদার বা সরবরাহকারী সংস্থারা? ৫৬ টাকা ৬৪ পয়সায় কী হয়? ১০৪টাকা দিলে মোটামুটি তিনবেলা ভাল খাবার দেওয়া সম্ভব জানার পরই আমি অর্থমন্ত্রীকে সেটি ১১০ টাকা করার নির্দেশ দিই।’ বাজেটে এই ঘোষণা সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের মনে আশা জেগেছে। সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল সহ জেলা তথা রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালেই এখনও পুরনো রেটেই খাবার সরবরাহ চলছে। ফলে খাবারের মান এখনও বদলায়নি। এই পরিস্থিতিতে সরকারের এই জনমুখী ঘোষণা যাতে খাতায়-কলমে আটকে না থেকে দ্রুত বাস্তবে কার্যকর হয়, এখন সেই দাবিতেই সরব সাধারণ মানুষ।