


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর নেতাকে শায়েস্তা করতে অভিযোগ ঠুকছে রাজ্যে নেতৃত্বর কাছে। চলছে শোকজ পর্ব। তাতে দলের অন্দরেই ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেরই দাবি, যাঁরা দলের ভাবমূর্তি ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। হাজার চেষ্টা করেও দল তাঁদের লাগাম টানতে পারছে না। আর যাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠন বিস্তারের কাজ করেছেন, তাঁদের অনেকেই ব্যাকফুটে রয়েছেন। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাঁদের পিছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দলের এক নেতা বলেন, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য দল করিনি। জেলায় এখন যাঁরা প্রথম সারিতে রয়েছেন, তাঁদের অনেক আগে থেকেই সংগঠনের কাজ করেছি। তাঁরা যা বলবেন, সেটা মেনে নিতে পারছি না। সেই কারণেই আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় এখনো পর্যন্ত প্রায় ১০জন নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার গাংপুর এবং বর্ধমান শহরের এক নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁরা দু’জনেই আদি শিবিরের নেতা হিসাবেই পরিচিত। দলের এক নেতা বলেন, শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিকমতো হাল ধরতে পারছেন না। সংগঠন চালাতে গেলে দক্ষ নেতাদের বেছে নিতে হয়। কিন্তু এখন চলছে স্বজনপোষণ। যাঁরা হেভিওয়েট নেতাদের কাছের লোক, তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তাঁরা দল বিরোধী কাজ করেও রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন।
বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক দিন বর্ধমান-১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ স্বরূপ রানার মৃত্যুর পর দলের অন্দরেই ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। ওই তৃণমূল নেতাকে বিজেপি পার্টি অফিসে ডেকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি অনেক অনুরোধ করার পর জরিমানার অংক কমানো হয়। ২৩ লক্ষ টাকা তাঁকে সাতদিনের মধ্যে দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু এত টাকা তাঁর পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি পরের দিন বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের লোকজন ওই ঘটনায় ন’জন বিজেপি নেতা এবং কর্মীর নামে থানায় অভিযোগ করে। প্রধান অভিযুক্তদের পুলিশ তড়িঘড়ি গ্রেপ্তার করে।
ওই ঘটনার পরও দলের একাংশ দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। তাঁদের দিকে দল নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে, শোকজ নিয়ে দলের অনেকেরই ক্ষোভ রয়েছে। নেতাদের অনেকেই বলছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেই হবে না, তা প্রমাণ করতে হবে। তাছাড়া শোকজের লেটার যেভাবে বাইরে ছড়ানো হচ্ছে, সেটাও দলের শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছে।