


তিন ফরম্যাটে এখনও টিম ইন্ডিয়ার বড় ভরসা তিনি। বল হাতে পেলেই আগুন ঝরাচ্ছেন। কিন্তু বার বার চোটের থাবায় প্রশ্নের মুখে কেরিয়ার। এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত বিশ্বের এক নম্বর পেসারের? আমেদাবাদের ইসরো স্যাটেলাইট টাউনে রবিবার সকালে নিজের অ্যাকাডেমিতে বসে প্রিয় শিষ্য যশপ্রীত বুমরাহকে মূল্যবান পরামর্শ দিলেন ছোটোবেলার কোচ কিশোর ত্রিবেদী।
প্রশ্ন: অনেকে বলেন, অন্য কোনও কোচ হলে শুরুতেই বদলে দিতেন ওই অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন?
কিশোর: আমার সেটা কখনওই মনে হয়নি। ওটা ওর সহজাত। তাই বদলানোর প্রশ্নই ওঠে না। ও যখন আমার কাছে আসে, তখন বছর চোদ্দ হবে। একদিন ওর মা (ওই স্কুলেরই ভাইস প্রিন্সিপাল) বললেন, ‘ছেলেটা ক্রিকেট নিয়ে পাগলামি করছে। একটু দেখবেন?’ দু’বছর সময় চেয়েছিলাম। অন্য ছাত্ররা বলত বুমরাহ বল ছুড়ছে। কিন্তু জানতাম, ও মোটেও চাকার নয়। ওর বোলিং অ্যাকশনটাই ছিল ইউনিক।
প্রশ্ন: অ্যাকশনের কারণেই কি বার বার চোট পাচ্ছে তারকা পেসার?
কিশোর: একদমই না। ভুল ধারণা। ওর সমস্যা অন্য জায়গায়। প্রচণ্ড জোরে ল্যান্ড করতে গিয়েই আঘাত পাচ্ছে।
প্রশ্ন: এত কম রান-আপ কেন?
কিশোর: এটাই ওর কৌশল। ব্যাটসম্যানরা বুঝতে পারে না ও এতটা কম ছুটেও মারাত্মক জোরে বল করতে পারে।
প্রশ্ন: গতি তো ছিলই। ইয়র্কার কি বুমরাহকে আরও ভয়ঙ্কর করেছে?
কিশোর: ঠিকই বলেছেন। শুরুতে গতির সঙ্গে বাউন্সার দিত বেশি। হাতে ধরে ইয়র্কার শিখিয়েছি। পরে মালিঙ্গার সাহায্য পেয়েছে।
প্রশ্ন: কখনও কি মনে হয়েছিল, এই ছেলেটাই একদিন ক্রিকেটে শাসন করবে?
কিশোর: বছর তিনেক ওকে কোচিং করানোর পর মনে হয়েছিল, ছেলেটা এক্সট্রাঅর্ডিনারি। শুধু একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। গুজরাত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সচিব অনিল প্যাটেলকে অনুরোধ করে ওকে জেলা ভিত্তিক দলে সুযোগ করে দিই। একটা বেসরকারি টুর্নামেন্টের টি-২০ ম্যাচে জন রাইটের নজরে পড়ে বুমরাহ। তারপর মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং বাকিটা ইতিহাস।
প্রশ্ন: একটা কঠিন প্রশ্ন না করে পারছি না। বুমরাহর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার আর কতদিন?
কিশোর: ঘন ঘন চোট পাওয়া অ্যালার্মিং। আমার পরামর্শ, যতটা সম্ভব কম টেস্ট খেলুক। কারণ, একটা টেস্ট ম্যাচে ৪০-৪৫ ওভার হাত ঘোরাতে হয়। ওর পক্ষে এই ধকল নেওয়া কঠিন।
প্রশ্ন: চলতি বিশ্বকাপে শিষ্যের কাছে কী আশা?
কিশোর: গোটা দেশ যা চাইছে, আমিও তাই। ট্রফিটা জিতুক টিম ইন্ডিয়া।