


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঝাড়খণ্ডের চাণ্ডিলে ব্যবসায়ী নিখার সবলোক খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুলিশের এক সার্জেন্ট ও মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার। ধৃত সার্জেন্টের নাম অয়ন গুপ্ত ও মহিলা সিভিকের নাম টুইঙ্কল দাস। দু’জনেই বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত। ওই সার্জেন্টের বাবা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার। খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে ধৃত সার্জেন্টের কথাবার্তার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি ঝাড়খণ্ড পুলিশের। তার ভিত্তিতেই তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রের খোঁজে সিভিক ভলান্টিয়ারের বেলেঘাটার বাড়িতেও তল্লাশি চলেছে। এ প্রসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে খবর, ২৪ আগস্ট ঝাড়খণ্ডের চাণ্ডিল থানা এলাকায় গুলি করে খুন করা হয় তরুণ হোটেল ব্যবসায়ী নিখার সবলোককে। সাড়ে তিন একর জমি নিয়ে বিবাদের জেরে সুপারি কিলারদের দিয়ে তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় ছয় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। জানা যায়, গোটা পরিকল্পনার মূলে ছিল অশোক কুমার সিং ওরফে রাঘব নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার দিন অশোক কলকাতায় পালিয়ে এসে বেলেঘাটা এলাকায় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, অশোক এই রাজ্যে আসার আগে কলকাতার দু’জনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যপে চ্যাট করেছে। এমনকি, বাকি ধৃতদের সঙ্গেও কথা বলেছে ওই দু’জন। ঝাড়খণ্ড পুলিশ খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারে, এদের মধ্যে একজন কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট এবং অন্যজন সিভিক ভলান্টিয়ার হিসাবে কর্মরত। এই দু’জন অশোককে কলকাতায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এরপরই ঝাড়খণ্ড পুলিশের সিট বৃহস্পতিবার সকালে লালবাজারে পৌঁছয়। কলকাতা পুলিশের অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে দলটি। এরপরই লালবাজারের তরফে ওই সার্জেন্ট ও সিভিককে ডেকে পাঠানো হয়। সূত্রের খবর, সার্জেন্টের সঙ্গে অশোকের যোগাযোগ কীভাবে, জানতে চাওয়া হয়। কলকাতায় আসার আগে অশোক তাঁকে কেন ফোন করেছিল, সেই প্রসঙ্গও জিজ্ঞাসাবাদে ওঠে এসেছে বলে খবর। অভিযোগ, বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় গ্রেপ্তার করা হয় সার্জেন্ট ও সিভিককে। একইসঙ্গে জানা যাচ্ছে, সিভিক ভলান্টিয়ারের বেলেঘাটার বাড়িতে অশোকের দেহরক্ষীর আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ছিল। এখানে অস্ত্র রেখে অন্য জায়গায় লুকিয়েছিল দু’জন। এমনকি, সুপারি কিলারদের পেমেন্ট গিয়েছে এই দু’জনের পরিচিতের অ্যাকাউন্ট থেকে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ওই সিভিকের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডে অপরাধে জড়িতদের যোগাযোগ রয়েছে।